Related image

জনসন রোড, পুরান ঢাকা-  মাহবুব জামান আশরাফী                                     

কিছু কথা 

২০১৩ সালে BBA শেষ করার পর হঠাৎ করে LLB তে ভর্তি হলাম৷ সবাই আমার উপর ক্ষেপা৷ সবাই ধরেই নিল আমার মাথায় সমস্যা দেখা দিয়েছে৷ আমাকে দিয়ে জীবনে আর কিছু হবে না৷ অনেকে অনেক রকম কথা বল্ল অনেক রকম আন্দাজ করল৷ কেউ ভাবল আমি  BBA তে খুব খারাপ রেজাল্ট করেছি সুতরাং আমাকে দিয়ে ঐ লাইনে কিছু হবে না তাই আমি আইন বিদ্যা রপ্ত করতে শুরু করেছি৷ যেহেতু আমার পরিবার এবং আত্মিয় স্বজনদের মাঝে ডজন খানেক (আরো বেশী হবে মনে হয়, কিন্তু ডজন খানেক বল্লে ভাল শোনায় তাই ডজন খানেক ই থাক) আইন পেশায় নিয়জিত৷ সবাই ভাবল আমি সেই সুযোগ নিচ্ছি৷  আবার কেউ ভাবল আমি স্রেফ পাগল হয়ে গেছি৷ কেউ ভাবল BBA আর Law ভাল combination সমস্যা কি ?

একদিন রাতে একটা গল্প লিখতে বসি (একটু লেখা লেখির বদ অভ্যাস আছে কিনা!)৷ লিখতে যেয়ে আবিষ্কার করলাম যে গল্পটা লিখতে চাচ্ছি তা সম্পর্কে আমার জ্ঞান নাই৷ মানে আমি আইন নিয়ে তেমন কিছু জানি না৷ ঐ গল্প টা লেখা আর হল না৷ তো কি আর করা, জ্ঞান না থাকলে জ্ঞান আহরণ করা লাগে,  জ্ঞান আহরণ করার জন্যে আইন বিদ্যা টা রপ্ত করলাম৷ সেই গল্পটা ও লেখা শেষ হল৷ Scroll করে নিচে নামলেই  সেই গল্পটা পাবেন৷ এই গল্পের চরিত্র রিফাত আজিম ভাইকে না জিজ্ঞেস করেই তার নাম টা ব্যবহার করলাম৷ আশা করি সামনে দেখা হলে মাইর টাইর খাব না৷

PDF : http://bit.ly/2hTH3A9

ePub: http://bit.ly/2ie58y9

Read Online: http://bit.ly/2h8KHES

 

হাসি মঞ্জিল

জনসন রোড এর ঘিঞ্জি একটা বাড়ি । হাসি মঞ্জিল৷  পুরান ঢাকার জজ কোর্ট থেকে একটু এগিয়ে হলুদ রং এর একটা ৩ তলা বাড়ি । দেখে মনে হবে রাস্তা থেকে অনেক ভেতরে। কিন্তু ছোট সরু গলিটা দিয়ে ঢুকলে দেখা যাবে সেই গলির ভেতর যেন অন্য এক দুনিয়া৷ টিন-শেড এর কিছু দোকান, টুকটাক করে রাজ্যের ব্যাস্ততায় কাজ চলছে পুরান যুগের সেই টাইপ রাইটার গুলোতে। কত হাসি কান্না, রাগ অভিমান, শোধ প্রতিশোধ এর সাক্ষী এই টাইপ রাইটার গুলো৷ খারাপ-ভাল মানুষের হয়ে কত জাজের কাছে আবেদন করেছে এই টাইপ রাইটার গুলো । এই টাইপ রাইটার এর বোতাম এর চাপে কত ভাল মানুষের ঝুলে গেছে, আর কত কুখ্যাত খুনি ছাড়া পেয়ে গেছে৷ আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে  বেরিয়ে যাওয়া আর ঝুলে যাওয়ার জন্য কেউ এই টাইপ রাইটার গুলোকে দোষ দেয় না। দোষ দেয় না টাইপিস্ট দের ও। এরা হচ্ছে পুতুল। উকিল রা এদের যেভাবে নাচায় এরা সেভাবেই নাচে৷

হাসি মঞ্জিল এর নিচ  তলায় এডভোকেট রিফাত আজিম এর চেম্বার৷ গোল গাল চেহারার লোকটার ভুরিটা বেরুনো শুরু করেছে৷ মাথায় এক ঝাঁক চুল মাঝে মধ্যেই কাজের যন্ত্রণার কাড়ন হয় ওগুলো৷ চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা৷ চশমাটির কাঁচ ঝকঝকে৷ রিফাত আজিমকে মানুষ এক নামে চিনে৷ কুখ্যাত সব মানুষদের ছাড়িয়ে দিতে তার জুড়ি নেই৷ অন্তত লোকে তাই বলে৷ খুন করেছেন ? ডাকাতি করেছেন? ধরা পড়লে রিফাত আজিমের কাছে যাবেন৷ মারাত্মক চতুর আর সুযোগ সন্ধানী এর রিফাত আজিমকে এই দুনিয়াতে সম্ভবত একজন ই ভাল বলে জানে, সে হচ্ছে অরিফ৷ আরিফ ও পেশায় উকিল৷ সে সিভিল মামলা করে৷ খুন খারাপি এগুলো তার পছন্দ না৷ সৎ জীবন যাপন করে৷ প্রতিদিন সৃষ্টি কর্তা যদি তার পাপ লিখে থাকে তাহলে সেটা হবে রিফাত আজিমের সঙ্গে থাকার পাপ ! 

রিফাত আজিমের চেম্বারে আরেকজন আছে তান নাম চুক্কু, সে মুহুরি৷ রিফাত আজিম যদি ধূর্ত এর শিরোমণি  হয় তাহলে সে হবে এই দুনিয়ায় তার এক মাত্র যোগ্য শিষ্য৷ 

আগন্তুক 

কাচ্চি বিরিয়ানির হাড় সহ মাংসের পিস টা চিবাতে চিবাতে আরিফ কে  রিফাত বল্ল

‘বন্ধু দিন দিন তো মোটাই হয়ে যাচ্ছি৷ এই গত মাসে ও ৮০ কেজি ছিলাম৷ আজকে সকালে ওজন মাপলাম দেখি ৮৪ কেজি৷ সর্বনাশ টা হয়েছে৷ ওজন কমাতে হবে বুঝলি৷’

আরিফ  উত্তর দিল

‘হু’

‘খালি হু বল্লে হবে? কিছু তো করতে হবে৷ কিছু একটা প্লান কর৷ এভাবে চল্লে তো মরে যাব৷ এখন ও বিয়েটাই করলাম না ভায়া৷ তুমি তো বিয়ে করে দিব্বি আছ৷’

‘হু’

‘শালা আমি যা খাই তুই ও তো তাই খাস, আবার বাড়ি যেয়ে ভাবির হাতে ও তো কম খাস না, তুই মোটা হোস না কেন? নাকি বাড়ি গেলে ভাবি খাওয়া বন্ধ করে দেয় !’

কথা টা বলে খুব চিন্তিত মনে হল রিফাত কে , সে চুক্কু কে হাঁক ছেড়ে ডাকল

‘এই চুক্কু, ওই চুক্কু কই তুই হারামজাদা’

‘সার সার’ বলতে বলতে চুক্কুর মুখ দেয়ে সিগারেট এর ধোয়া ধুরমুর করে বের হল৷

‘শালা সারাদিন বিড়ি ফুঁকিস, তোরে আর রাখা যাবে না৷ তুই তোর রিপ্লেসমেন্ট খোজ৷ তোরে সামনের মাসেই বাদ, বিড়ি ফুকে না এমন একটা খোজ৷’

‘আইচ্ছা স্যার’

‘আজকে থেকে আরিফ রে প্রতিদিন যাওয়ার সময় ৪ প্যাকেট কাচ্চি দিয়া দিবি, না কাচ্চি না, এক এক দিন এক একটা দিবি, ঐ যে কি জানি হোটেল টা নামটা কি শালা…’

‘স্যার রাজ্জাক!’

‘আরে হ, রাজ্জাক ওখান থেকে এক এক দিন এক এক পদ নিয়া আবি৷ শালা আরিফ তোর বউ টা এমন কেন? খাইতে দেয় না আর তুই আমারে বলিস ও না৷ ঐ যা৷ ভুল হয়না জানি৷’

আরিফ ততক্ষণে খাওয়া শেষ করেছে

‘কিরে ঐ তোর খাওয়া শেষ, বউরে বকা দিসি দেখে খাবি না নাকি আর মহা জালা তো শালা৷ খাস না যা’

বলে আরিফের আধা খাওয়া কাচ্চির প্যাকেট টা নিজের পাতে তুলে নিল রিফাত৷ 

‘আরে আপা সারেরা খাচ্ছে তো, এখন ঢুকলে আমার চাকরি টা যাবে৷ সামনের মাসে যাকে চাকরি টা দেব তার টা ও যাবে’

‘ভাই আমার রিফাত স্যারের সাথে দেখা করতেই হবে খুব জরুরী’

‘আরে আপা ধৈর্য ধরেন, আপনার কেইস টা কি? এত ক্যাচের ম্যাচের লাগাইলেন কেন ? সমস্যা টা কি বলেন আমারে …’

‘ভাই খুনের কেইস’

‘ও, খুন কে করসে আপনার জামাই? 

নাকি আপনের ভাই ? ‘

‘আমি করেছি ভাই’

‘ঐতেরি, আপনে করেছেন?’

‘না মানে আমি করি নাই, পুলিশ আমারে খুঁজছে তারা আমি করেছি বলে আমাকে ফাঁশিয়ে দিচ্ছে’

‘ও হেইডা কন, তয় আপনে যে ভাবে মাইকিং করতেছেন আপনি খুন করেছেন তাতে পুলিশ তো আপনে ফাঁসাইব ই এটাই তাদের কাজ, খুন হলে কাউরে না কাউরে তো দেখাতে হবে যে তারা ধরসে৷ আর আপনে তো সেই….’

‘ঐ কার সাখে পিরিত করিস রে?’ 

রিফাত খাওয়া শেষ করেছে ৷ করে চুক্কুরে ডাক দিল৷

‘স্যার এক মহিলা আইসে, কি নাম বলল অরিন কি কয়, খুনের কেইস৷ পাঠামু?’

‘আপয়েন্টমেন্ট নেয় নাই তো, … আইচ্ছা পাঠা’

‘আমি তাইলে যাই রে তুই কথা বল’ বলে আরিফ উঠে পড়ছিল৷

‘আরে বয় বয়, পুরা নোয়াখাইল্লা হয়া গেলি কবে, হাফ প্লেট তো অন্তত খাওয়ালাম’ 

সাক্ষী

‘আপা বলেন কি সমস্যা, আপনার খেদমতে কি ভাবে আসতে পারি’ বলে একটা ভুবন ভুলানো হাসি দিল রিফাত৷

‘ভাই আমি নিরীহ মানুষ, আমার হাসবেন্ড কে যথেষ্ট শ্রদ্ধা করতাম৷ পুলিশ আমাকে ফাঁসিয়ে দিতে চাচ্ছে৷ বিশ্বাস করেন ভাই আমি কিছু করি নাই৷’

‘আরে আপা তা তো বটেই৷ আপনে করলেই কি না করলেই কি, কথা হল কি ভাবে খুন হল আসয় বিষয় বলেন৷’

অরিন (নাম টা এখনো জানা যায় নাই) কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল৷ তার পর শুরু করল

‘আমাদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ, গত মাসের ৫ তারিখ আমি বাড়ি যাই, ৯ তারিখ ফিরি৷ এসে আমার হাসবেন্ড কে আমি মৃত অবস্থায় বাসায় পাই৷ মানুষ জন আমার কান্না শুনে এগিয়ে আসে হাসপাতালে নেয়া হয়, কিন্তু ডাক্তার বলে উনি অনেক আগেই মারা গেছে৷’

‘মৃত্যুর কাড়ন?’

‘ভাই খাবার এ বিষ!’

‘ও খাবারে বিষ?’

কথাটা বলে আরিফের দিকে তাকাল রিফাত৷ নীরবে দুজনের মাঝে কি যেন বাক্য বিনিয়ম হল৷ 

‘চাক্কু ও চুক্কু এদিকে আয়’

‘জী স্যার বলেন’

‘কুত্তা টি নিয়া আয়’

‘আইচ্ছা স্যার’

চুক্কু কিছুক্ষণের মাঝেই একটা বিশাল সাইজের কুকুর নিয়ে আসল৷  মহিলাটা লাফ দিয়ে দাড়িয়ে গেল৷

আরিফ নিজেকে লুকোনোর চেষ্টা করছে, ভীষণ বিব্রত সে৷

‘ম্যাডাম বসেন, ভয় এর কিছু নাই, আমার কুত্তা এটা নাম fear৷ 

আপনে বসেন’

‘ভাই কুকুর কেন? হচ্ছেটা কি ?’

‘সব বুঝবেন, আপনে বসেন’

কুকুর টার দিকে চোখ রেখে ভিত সন্ত্রস্ত ভাবে দুরের একটা চেয়ারে বসল অরিন৷

বসতেই কুকুর টা অরিন না ফরিনের কাছে গিয়ে চার পাশে একবার ঘুরে দেখল , তার পর জোরে জোরে ঘেউ ঘেউ করে উঠল৷ ঠিক দু বার৷ ভয়ে অরিন কেঁদে দিল৷ হাউ মাউ করে কান্না শুরু করল৷ চুক্কু হে হে করে হাসতে হাসতে fear কে নিয়ে গেল৷ যাওয়ার আগে রিফাত fear এর ঘাড়ে হাত বুলিয়ে দিল৷ আর বল্ল, সাব্বাস বেটা৷ 

‘ম্যাডাম, আমার কাছে চোর বাটপার, খুনি, রেপিষ্ট সব ই আসে৷ আমি কখনো কখনো এদের কেইস নেই কখনো কখনো নেই না৷ আপনার কেইস টা আমি নিব৷ আপনে বাড়ি গেলে কি আপনাকে এরেস্ট করার সম্ভাবনা আছে নাকি?’

‘জী ভাই’

কাঁদতে কাঁদতে বলল অরিন৷

‘তাহলে এক কাজ করেন, আজকে আত্মীয় স্বজন এর বাড়িতে থাকেন৷ বাপ মা , ভাই  বোন না৷ একটু দুরের আত্মীয়৷ বন্ধু বান্ধব হলে ভাল হয়৷ আপনার এলাকার ওসির সাথে আমি  কথা বলে রাখব , কাল ১০ টায় আপনি নিজে থানায় কিয়ে আত্মসমর্পণ করবেন৷ ৩-৪ দিনের মাঝে জামিন পেয়ে যাবেন৷  চিন্তার কিছু নাই৷ তবে এই দেশে মামলা কত দিন লাগে তার তো ঠিক নাই৷ মামলা যদি হয়৷ মামলা নিষ্পত্তি হতে সময় লাগবে৷ এখন কাজের কথায় আসি৷ যেদিন আপনার হাসবেন্ড খুন হল সেদিন কখন কোথায় ছিলেন বিস্তারিত আমার জানা আই৷ নিন শুরু করুন৷ ঘটনার আগের দিন রাতে থেকে শুরু করুন৷ ‘ 

শুরু করল অরিন  

‘ভাই আমি রাত ১১ টার দিকে ঘুমাতে যাই, সকাল ৫ টার দিকে উঠে, নৌকা করে বাস স্ট্যান্ড আসি সেটা প্রায় ৫ ঘন্টার জার্নি, সেখান থেকে ঢাকার বাস নিয়ে রাত আনুমানিক ১০ টায় বাসয় পৌছাই, ঢাকায় ট্রেন থেকে নামি রাত ৮ টায়৷’

‘আরে আস্তে আস্তে৷ আপনি দেখি শর্টকাট মারেন৷ আপনি শর্ট কার্ট মারলে কিন্তু আমাদের কেইস ও শর্টকাট হয় যাবে৷ প্রথমে বলেন আপনার গ্রামের বাড়ি কে আছে৷’

‘ভাই ২ বছর আগে আমার হাসবেন্ড এর মা মারা গেছে, তার পর থেকে নিকট আত্মীয় কেউ নেই৷ আমাদের বাড়ি টা যে গ্রামে সেটায় আমাদের আত্মীয় বলে কেউ নেই৷ তবে পাড়া প্রতিবেশী তো আছে৷ তাড়া আপনাকে কেউ দেখেছে সেদিন ভোরে বের হয়ে নৌকায় উঠতে৷’ 

‘ভাই আমার জানা মতে না, অত সকালে কেউ তো উঠে নি৷ এখন শিতের সকাল আর তখন অন্ধকার ও ছিল কিছু টা৷ সূর্য পুরো উঠে নি৷ তার মাঝে আমি বের হলে বোরখা পরি৷’

‘অ আচ্ছা, কেন গিয়েছিলেন গ্রামে?’

‘ভাই প্রতি বছর একবার যাই৷ পূর্ব পুরুষ এর ঘর বাড়ি, maintenance তো লাগে৷’

‘Maintenance লাগে তো আপনার হাসবেন্ড করে কি ঘাস খায়’

‘ভাই আমার হাসবেন্ড এর গ্রামের দিকে তেমন কোনো ইন্টারেস্ট নাই৷ সে আমাকে যেতে বাড়ন করত৷ তার এসবে পয়সা আর সময় খরচ ভাল লাগেনা৷ তাই এই বিষয়টা আমিই দেখা শোনা করতাম৷ এই নিয়ে আমাদের মাঝে একটু দণ্ড ছিল৷ কিন্তু এটা তেমন কিছু না৷ আছে না আপনার যা ভাল লাগে না আপনি করবেন না অন্য কেউ করলে আপনি বাধা ও দিবেন না সাহায্য ও করবেন না? এমন আরকি !’

‘সবই তো বুঝলাম, আমি তো বুঝলাম, জাজ কি বুঝবে? আচ্ছা যাক তার পর নৌকাতে ও কি কেউ ছিল না ? মাঝি ? এই বেটা আপনাকে চিনবে ? ‘

‘ভাই বোরকা পড়া ছিলাম৷ মনে হয় না৷ তবে আমি ট্রেন এ মাথা খুলে বসে ছিলাম৷ আমার পাশে যে মেয়েটা বসে ছিল, তার সাথে গল্প গুজব ও করেছি৷’

‘আরে বাহ, কাজের কাজ করেছেন, তারে পাব কই? কোনো আইডিয়া?’

‘ভাই! না ভাই ! তবে এই টুকু জানি তার নাম রাহেলা৷  সে ফেইসবুক গুঁতচ্ছিল তো সেখান থেকে দেখেছি৷ প্রোফাইলে৷ আর ওই মেয়ের চোখে কোনো সমস্য আছে নিশ্চয়ই৷ মেয়েটার চোখে একটা সান গ্লাস পড়া তার চশমার এক চোখ দিয়ে কিছু দেখা যায় না অন্যচোখে সাধারন পাওয়ার এর গ্লাস পড়া ছিল৷ মানে এক চোখ বন্ধ করা ছিল৷ আমি ওই মেয়ের চেহারা ভুলব না৷ ‘

‘মানে ঐ মেয়ের চোখে সমস্য আছে? হায়রে এমন ই witness  পেলেন যার চোখে সমস্যা, কপাল, খালি রাহেলা? আর কিছু নাই ? আগে পরে ? প্রোফাইল ছবি টা মনে আছে ? ‘

‘জী জী আমি ফেইসবুকে খুঁজলে পাব, মনে হয় পাব! পাব না ভাই ? ‘

বিরক্ত হয়ে রিফাত, আরিফ এর দিকে তাকাল৷ আরিফ অণেক্ষন চুপ থাকার পর মুখ খুলল 

‘ম্যাডাম জলদি ফেইসবুকে তারে সার্চ দেন৷ মানুষ প্রোফাইল পিকচার পাল্টে ফেলে অহরহ৷ দেখেন এতদিনে পাল্টে না ফেল্লে যোগাযোগ করেন৷’

আরিফ, অরিন কে জিজ্ঞেস করল আপনি বাসায় গেলেন কি করে ? সি এন জি ?

‘জি ভাই ‘

আমার হাসবেন্ড এর গাড়ি নিয়ে আসার কথা ছিল কিন্তু সে তো আসে নি৷ 

জামিন

অরিন থানায় গিয়ে ধরা দিয়েছে আজ ২ সপ্তাহ৷  অনেক রকম চেষ্টা করেও রিফাত তাকে জামিন নিয়ে দিতে পারে নি৷ জজ সাহেব খুবই কড়া, অনেক চেষ্টা করেও তাকে বোঝানো গেল না যে মেয়ে মানুষ পালিয়ে যাবে কই ! জামিন দেন মামলা চলুক, নির্দোষ প্রমাণ না হলে জেলে পুরে দিয়েন৷ জজের এক কথা খুনের মামলা জামিন নাই৷ 

ওদিকে যত দিন যাচ্ছে মামলার অবস্থা খারাপ হচ্ছে৷ ট্রেনে অরিন এর সাথে আসা মেয়েটা যে কিনা একমাত্র সাক্ষী হতে পারে তাকে পাওয়া যায় নি৷ যত দিন যাচ্ছে মেয়েটা ভেঙ্গে পড়ছে৷ এক সময় দেখা যাবে এই সব মামলা মোকদ্দমার ঝুট ঝামেলা তে মানুষিক ভাবে ভেঙ্গে  বলে বসেছে আমি খুন করেছি৷ মানুষের মাথা আজব ভাবে কাজ করে৷ কখন কি করে বলা মুশকিল৷ 

এমন করে আরো ৩ সপ্তাহ গেল অরিন ফরিনের নামে চার্য শিট দাখিল হল, জাজ প্রি ট্রায়াল এর দিন ধার্য করলেন ২ মাস পর৷ 

খেলা 

মামলা জিনিস টা হচ্ছে খেলা৷ এটা একটা জুয়া খেলা৷ এই জুয়ার বাজি মানুষের জীবন৷ দুটো দল থাকে৷ এক দল আসামী পক্ষ, যাকে রাষ্ট্র পক্ষ দোষী প্রমাণ করতে চায়৷ আরেক পক্ষ হল রাষ্ট্র পক্ষ যে নিপীড়িতের হয়ে কথা বলে৷ এই খেলার মূল লক্ষ যদিও মনে হতে পারে সত্য উৎঘাটন করা, দোষী কে শাস্তি দিয়ে কিন্তু ব্যাপার টা কিন্তু অত সহজ না৷ এখানে যে যত চতুর সেই জয়ী৷ দোষ নির্দোষ এর কোনো দাম নেই৷ 

রবিবার, সকাল ১০ টা ২২ মিনিট, মানুষে গিজ গিজ করা আদালত কামরায় দাঁড়াবার ঠাই নেই৷ রিফাত আজিমের কেইস নাম্বার ডাকল  আদালতের কর্মকর্তা৷ রিফাত আজিম আরো ১০ কেজি বেড়ে যাওয়া শরীর টা নিয়ে কষ্টে উঠে সামনে গেল৷ 

জজ সাহেব খুব কড়া মানুষ, নাকের ডগার চশমার ফাকা দিয়ে উকি মেরে রিফাত ও সরকার পক্ষের উকিল আসিফ কে জিজ্ঞেস করলেন 

‘আপনারা তৈরি? আসামি কই?’ 

আসামি কে দেখিয়ে দিল রিফাত আজিম .৷ 

‘ও আপনি? হাত কড়া কেন ? জামিন দেই নাই ?’

কথাটা শুনতেই চিক চিক করে উঠল সুযোগ সন্ধানী রিফাত এর চোখ৷ বল্ল 

‘Your honor…’

রিফাত কি বলবে যেন বুঝতে পারল জজ সাহেব হাত দেখিয়ে থামিয়ে দিল 

‘Miss Orin, how do your plea? কি দোষী নাকি নির্দোষ? ‘

কিছুক্ষণের জন্য সময় যেন থেমে গেল৷ রুমে চলতে থাকা সব গুঞ্জন কমে গেল, সবার নজর এখন অরিনের দিকে৷ শাড়ির আচল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে অরিন দাঁত কির মিড় করে বল্ল নির্দোষ৷

স্বভাবতই pre-trial এর অরিন নির্দোষ প্রমাণ করা গেল না , তবে অরিন জামিন পেল, আর ৬ মাস পর মামলার দিন ধার্য করা হল৷  

অপ্রত্যাশিত

‘বন্ধু রিফাত, এই মামলা টা প্রেস্টিজ পাংচার করে দিবে মনে হয় রে৷’

‘ভায়া, তোমার যে কিসে প্রেস্টিজ পাংচার হয় বোঝা মুশকিল, সারা দুনিয়ার চোর ডাকাত কে রিপ্রেজেন্ট করে বেড়াও ওটায় কি প্রেস্টিজ বাড়ে?’ 

সিঙ্গারা আর চা মুখে দিতে দিতে উত্তর দিল আরিফ৷ 

‘ভায়া ওসব দেখিও না বুঝলা, ওসব আমিও দেখাতে পারি৷ আমি ভাবছি মামলা হারলে ইজ্জত থাকবে না৷ আর তুমি কি শুরু করলে৷ আবার হয়েছে নাকি বউ এর সাথে কিছু? আমার উপর দিয়ে দিচ্ছ কেন ভাই ?’

কোনো উত্তর দিল না আরিফ৷ 

‘বুঝলে, মামলা টা এত সহজ কিন্তু কোনো সাহায্য পাচ্ছি না৷ একটা সাক্ষী নেই কিছু নেই৷ কোনো কাড়ন ছাড়া মেয়েটাকে ফাঁসিয়ে দিচ্ছে বুঝলে৷ পুলিশ গাঁ বাঁচাচ্ছে৷ আর ওই হাসবেন্ড বেটা যে খুন হল সে তো একটা বদমাস৷ আমি খোজ নিয়েছি বুঝলে৷ ক্যারেক্টার ভাল না নেশা টেশা মানে মদ টদ খেত৷ জঘন্য লোক৷’

‘তুমি জঘন্য বলছ? তাহলে নিশ্চয়ই জঘন্য৷’

‘এই আরিফ, দেখ ভায়া বেশি হচ্ছে কিন্তু, হয়েছে টা কি বলবা? না বলতে চাইলে পারলে একটু সাহায্য কর নাইলে চুপ করে শোন৷ ধুর মেজাজ টাই খারাপ করে দিলে… ‘

‘আচ্ছা বল কি সাহায্য করতে পারি বল৷’

‘সাহায্য বলতে আমি তোমাকে ঘটনার দিনের পুরা টাইম লাইন টা বলি, তুমি দেখ কোনো ফাঁক ফোকর পাও কিনা’

‘হু, শুরু কর’

‘অরিন ভোর ৫ টায় রওনা দেয় কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার পথে৷ সে ঢাকায় পৌছুতে তার রাত ৮ টা বেজে যায়৷ বাসায় পৌছুতে প্রায় ১০ টা বাজে৷ কমলাপুর থেকে মিরপুর৷ দূর আছে৷   বাসয় পৌঁছে সে বাড়ির দরজা খোলা পায়৷ মৃত অবস্থায় পায় তার হাসবেন্ড কে৷ তাকে হাসপাতাল এ নেয়া হয় ডাক্তার মৃত বলে৷ ডাক্তার এর মতে ওনার হাসবেন্ড মারা গেছে সন্ধ্যা ৬ টার দিকে৷  এখন যেহেতু সে ট্রেন এ ছিল সে কিছুতেই খুন করতে পারে না৷ এটা আমরা জানি৷ কিন্তু পুলিশ বলছে৷ অরিন আরো আগেই এসেছে৷ খুন করে বলেছে সে আজ এসেছে৷ পুলিশের মতে সে ঘটনার দিন সকালে এসেছে৷ অথবা দুপুরে ও আসতে পারে৷ হয়তো বাসে চলে এসেছে সময় কম লেগেছে৷ অনেক রকম পসিবিলিটি দেখাচ্ছে৷ পুলিশের কাছে সব চেয়ে বড় মটিভ হচ্ছে এদের সংসারে কলহ লেগে ছিল৷ সারা দিন ই ঝগড়া ঝাটি চলত , অরিনের হাসবেন্ড মদ টদ খেত৷ অনেক ঝামেলা ছিল লোকটার মাঝে৷ পুলিশ বলছে অরিন আর না পেরে তার হাসবেন্ড কে হত্যা করেছে৷’

‘আচ্ছা ওনার হাসবেন্ড এর সহায় সম্পত্তি কেমন ছিল?’

‘কিচ্ছু না, একটা ফ্যাক্টরি আছে ওদের কলম বানায় পেন্সিল বানায় সেটাও অরিন এর নামে৷ অরিনের বাবার ছিল, সেটা তার হাসবেন্ড চালাত ঠিক ই কিন্তু মালিক অরিন৷ আবার অরিন এর বাবা অনেক ধনী ছিল জমি জমা টাকা পয়সা সব অরিনের নামেই৷’

‘সুতরাং টাকা পয়সার জন্য অন্তত মারে নি এটা পুলিশ বলতে পারবে না’

‘নাহ, নো ওয়ে’

‘আচ্ছা তাহলে এখন বল এই অবস্থায় তোমার ডিফেন্স কি?’

‘সেটাই তো ভায়া…’

কথা টা শেষ হতে দিল না চুক্কু , হুরমুর করে রুমে ঢুকল৷ 

‘স্যার, মিস রাহেলা নামে একজন এসেছে!’

‘এখন কারো সাথে দেখা হবে না পরে আসতে বল, এপয়েন্ট মেন্ট ছাড়া আসে কেন কান্ড জ্ঞান নাই? যত্তসব যা’ বলে ভীষণ একটা চিৎকার দিল রিফাত৷ 

‘স্যার!!’

‘ওই তুই যাবি না মাইর খাবি’

‘স্যার মিস রাহেলা, সেই রাহেলা, আরে…’

‘রাহেলা মানে কি বলতে চাইছিস….’ চিৎকার কলে উঠল আরিফ

হঠাৎ ই নামটার গুরুত্ব বুঝতে পেরে লাফ দিয়ে চেয়ার থেকে উঠল রিফাত৷ 

‘বলিস কি? নিয়ে আয় জলদি বাইরে দাড়া করিয়ে রেখেছিস কেন হতচ্ছাড়া’

পড়নে হলুদ রং এর একটা সালোয়ার কামিজ, রাহেলা একটু খুরিয়ে খুরিয়ে হাটে৷ খুরিয়ে বল্লে ভুল হবে৷ ডান পা টা একটু টেনে টেনে হাটে৷ উঁচু করতে সমস্যা হয় বোধয়৷হাতে একটা কাল রং এর ভেনিটি ব্যাগ৷ দুই হাতে শক্ত করে বুকের কাছে ধরে রাখা৷ আস্তে আস্তে রুমে ঢুকল রাহেলা৷ বল্ল আস্সালামুয়ালাইকুম ভাইসাব…. 

ভাল মানুষ

‘আপা আপনি রাহেলা?’ খুব একসাইটমেনন্ট এর সাথে জিজ্ঞেস করল আরিফ৷ 

‘জী-  ভাই আমি রাহেলা৷ ঐ যে মেয়ে টা অরিন সে আমার সাথে এসেছে৷ আমার পাশে বসেই এসেছে৷ আমি পেপারে মেয়েটার ছবি দেখে সাথে সাথেই চিনতে পারি৷ কিন্তু আসলে পুলিশ-আদালত আমার ভীষণ ভয় লাগে ভাই৷ তাই আমি আসি এত দিন দেখা করি নাই৷ কিন্তু এক সময় আমার মনে হল কাজটা কি ঠিক হচ্ছে একটা ভাল মানুষ এভাবে ফেঁসে যাচ্ছে তাই আর পারলাম না৷ আমার হাসবেন্ড, উনিও আমাকে বোঝালেন ঠিক কাজটাই করা উচিত৷ উনি খুব পরহেজগার মানুষ৷ 

রাহেলার কথা গুলো শুনে মনটা কেমন যেন হয়ে গেল রিফাত এর৷ 

‘বন্ধু কি হল’ কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিল রিফাত… 

‘আচ্ছা তাহলে আপনি বলছেন অরিন আপনার সাথে এসেছে? ঠিক ?’ 

‘জী ভাই, আমরা আনুমানিক ৮ টার দিকে ট্রেন থেকে নেমেছি’ উত্তর দিল রাহেলা 

আরিফ যোগ করল  

‘ঠিক তাই বলেছে অরিন ও’

‘হু তাহলে তো কিছুতেই অরিন খুনি হতে পারে না৷ কাড়ন পোষ্ট মর্টেম এর ডাক্তার নিশ্চিত করে বলেছে খুন টা কোন মতেই সন্ধ্যা ৬ টার আগে করা হয় নি৷ রিপোর্ট তাই বলে’

ভীষণ একটা চাপে ছিল রিফাত৷ এমন একটা মিরাকল হয়ে যাবে ভাবতে পারে নি ও৷ দীর্ঘ একটা শ্বাস ফেল্ল ও৷ এমন মিরাকল ও হয় ? বাপ রে কখনো ভাবতে পারে নি এমন হবে৷ এভাবে রাহেলা ওদের অফিসে এসে নিজেই সশরীরে হাজির হবে৷ অথচ কত ভাবেই না রাহেলার খোজ নিয়েছে ওরা৷ ভাল মানুষের জন্যে হয়তো এভাবেই সাহায্য এসে হাজির হয়৷ নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত গুলোক মাঝে মধ্যেই  ওকে ভাবাতে শুরু করল৷

বহুরূপী মানুষ

আগামীকাল সকালে মামলা শুরু, হাতের কাজ টি শেষ করে নিচ্ছে দুজন ই৷ হঠাৎ দৌরে এসে চুক্কু হুর মুর করে রুমে ঢুকল৷ রিফাত আর আরিফ দু জনই অবাক৷

‘স্যার, স্যার’ বলে দুই হাঁটুতে হাত দিয়ে হাঁপাচ্ছে চুক্কু৷

‘স্যার স্যার করছিস কেন রে কি হয়েছে আবার কি আকাম করে এসেছিস৷’

 ‘স্যার আপনি বলেছিলেন না রাহেলা নিয়ে খোজ খবর নিতে?’

‘হু তা তো নিয়েছিস ও দু দিন আগেই তো বল্লি সব ঠিক আছে৷ ঐ দিকে কোনো ঝামেলা নাই’

‘ঝামেলা ছিল না স্যার ঝামেরা হয়েছে’

‘খুলে বল’

‘স্যার আমি দুইটা পোলা লাগায়ে রাখসিলাম রাহেলা এর বাড়ির সামনে৷ ওরা গত কয়দিন ধরে ওনারে ফলো করছিল৷ আজকে সন্ধ্যার দিকে রাহেলা পাবলিক প্রসিকিউটর   এর চেম্বারে গেছে৷‘

‘বলিস কি? সর্বনাশ’

আরিফ বল্ল ‘এটা সে করতে পারে না , আমাদের অনুমতি ছাড়া আমাদের সাক্ষীর সাথে কথা বলে কি ভাবে ? কম্প্লেইন দিলে ওর উকালতির লাইসেন্স যাবে তো৷’

‘তুই এতদিন করেছিস টা কি? সে মামলার আগের রাতে নিশ্চয়ই হুট করে দেখা করে নাই৷ আগেও নিশ্চয়ই গেছে’ বল্ল রিফাত

‘স্যার বিশ্বাস করেন এই মহিলা আজই প্রথম গেছে৷ আমি প্রসিকিউটর এর চেম্বারে কে আসে যায় তা ও খেয়াল রেখেছি৷ কোর্টেও নজর রেখেছে এই মহিলা আগে দেখা করে নি৷’

রাগে রীতিমত কাঁপছে রিফাত৷ কি করবে বুঝতে পারছে না  ও৷ 

‘সালার বেটা পাবলিক প্রসিকিউটর ওর চোদ্দটা বাজায় দিব আমি৷ কত্ত বড় সাহস৷ আমার সাক্ষী হাইজ্যাক? আমার সাথে দুষ্টামি৷’

‘বন্ধু শান্ত হও, ঘটনাটা কি বোঝার চেষ্টা করা উচিত আগে কেন গেল জানা যাবে কি?’ জিজ্ঞেস করল আরিফ৷ 

‘বোকার মত প্রশ্ন করিস না, রাহেলা কে কি এখন ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করা যাবে নাকি যে কেন গেল?, মোটেই যাবে না৷ ফোন দিলে আমরা যে জেনে গেছি সেটাও বুঝে যাবে আরো সতর্ক হয়ে যাবে৷’

‘বন্ধু এই সাক্ষীরে তো কাঠগড়ায় দাড়া করানো যাবে না৷ একদম সর্বনাশ করে দিবে৷ সাক্ষী কি উত্তর দিবে না জানলে তাকে কখনোই সেই প্রশ্ন করতে নাই৷ এটা হচ্ছে গোল্ডেন রুল৷ আর এই মহিলা তো পুরাই আমাদের বিপক্ষে চলে গেছে৷ ঘাপলাটা লাগল কই রে বুঝতে পারছি না৷’

‘এই মামলা এই সাক্ষী ছাড়া তো বন্ধু একদম ই হারা মামলা৷ এমন কি আমারা কাল যে নতুন তথ্য টা পেলাম সেটাও কোনো কাজে লাগবে না৷ উল্টো এখন যদি কোর্টে আমি বলি মিস অরিন কে তার হাসবেন্ড আরেকজন লোক দিয়ে নিয়মিত ব্যাকমেইল করছিল৷ আর যাকে দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করাচ্ছিল সেই খুনি হতে পারে৷ খুনের দায় সেই দিকে নিয়েও তো কোনো লাভ হবে না৷ বরংচ ওই প্রসিকিউটর সালা এখন বলবে ব্যাকমেইল করাচ্ছিল জেনে অরিন তার হাসবেন্ড কে খুন করে ফেলেছে৷ আর মিথ্যা সাক্ষী সাজাতে চেয়েছিল কিন্তু পারে নাই৷’

‘বন্ধু তাই তো দেখছি৷ কি করবি এখন’

‘আরিফ…’

‘হু বন্ধু বল’

‘তুই এখন বাড়ি যা, চুক্ক, তুই ও যা৷ আমাকে একটু ভাবতে দে৷’

রিফাতের মানুষিক অবস্থা এখন করুন৷ দুটো চোখ যেন বের হয়ে আসতে চাইছে৷ মোটা শরীরে ঘামে ভিজে উঠেছে৷ কপালের রগ গুলো যেন পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, লাফাচ্ছে ওগুলো৷ আরিফ কিছু একটা বলতে চাচ্ছিল , চুক্কুর ইশারায় থেমে গেল৷ একটু পর দুজনে রুম থেকে বেড়িয়ে গেল৷ আরিফ আর চুক্কু রিফাত এর এই রূপ দেখেছে৷ এই রূপ ওদের কাছে খুব পরিচিত৷ অনেকে ভাবে রিফাত এর মানবিকতা, মূল্যবোধ বলতে কিছু নেই৷ সত্যি কি নেই ? না থাকলে কেন এখন এমন কষ্ট পাচ্ছে ও ? একটা  ক্লায়েন্ট জেলে যাক ফাঁশি হোক অনেক উকিল ই রাতে নাক ডেকে ঘুমাত৷ কিন্তু রিফাত ? তাহলে ও এই কেন খারাপ তমকা টা পায় সব সময় ?  এই যে আজ যা হল, কাল যদি কোন মিরাকল বলে অরিন ছাড়া পেয়ে যায় আদালত পাড়ায় গুঞ্জন উঠবে রিফাত এক খুনিকে ছাড়া পাইয়ে দিয়েছে৷ হাসবেন্ড এর খুনিকে এই লোক ছাড়া পাইয়ে দিয়েছে, হারা মামলা জিতে গেছে নিশ্চয়ই কোথাও দুই নাম্বারি করেছে৷

ভুল 

৬ঘন্টা আগে … 

প্রচন্ড শীত পড়েছে, ঢাকার রাস্তা ঘাট ইতোমধ্যে ফাঁকা হতে শুরু করেছে৷ অনেক কষ্টে প্রসিকিউটরের চেম্বার টা খুঁজে পেল রাহেলা৷ বিশাল একটা ভুল হয়ে গেছে ভুল টা না শুধরালে একটা নিরীহ মানুষ বিপদে পড়বে৷ প্রসিকিউটর এর চেম্বারে গিয়ে নিজের পরিচয় দিল রাহেলা, বল্ল কথা আছে আসিফ সার এর সাথে

‘ম্যাডাম দেখেন আমি আইনত আপনার সাথে কথা বলতে পারি না, যদি না স্বেচ্ছায় আপনি আমার সাথে কথা বলেন৷’

‘ভাই আমি অত আইন টাইন বুঝি না৷ আমি একটা ভুল করেছি শুধরাতে চাচ্ছি৷’

‘বলুন কি সাহায্য করতে পারি, কি ভুল’

‘আমি মি. রিফাত কে বলেছি অরিন আমার সাথেই এসেছিল৷ কিন্তু কথা হচ্ছে আমার ভাল করে ভেবে দেখলাম ও ঘোড়াশাল আসা পর্যন্ত আমার পাশে ছিল না৷ আমার পেশের সিট খালি এই ছিল৷ ঘোড়াশাল এ ট্রেন ছাড়ার পর ও আমার কাছে এসে বসে৷ ‘

‘তার মানে সে ঘোড়াশাল যেয়ে এই উঠতে পারে ? ঢাকা থেকে ঘোড়াশাল তো বেশি দুরে না৷ সে দুপুরে রান্না সেরে আরামসে ঘোড়াশাল এ যেয়ে উঠে যেতে পারে , ও মাই গড৷’

‘জি, মি. রিফাত কেমন মানুষ আমি জানি৷ সবাই অনেক রকম কথা বলে৷যখন মনে পড়ল,  আমি এটা যেয়ে উনাকে বলতে সাহস পাই নি৷ উনি যদি আমাকে হুমকি দেয়৷ কিছু বলে৷ যদি আমাকে আর সাক্ষী হিসেবে না ডাকে৷’

‘মিস. রাহেলা আপনাকে ধন্যবাদ আপনি অনেক উপকার করেছেন৷ আপনি যথার্থ ই করেছেন৷ আপনি আরেকটা রিকোয়েস্ট রাখবেন কি ?’

‘জী, বলুন’

‘আপনি যে আজ এখানে এসেছেন যদি না বলতেন কাউকে ? কাল আপনাকে ডেকে যখন রিফাত সাহেব যা ই প্রশ্ন করুক আপনি সত্য টা বলবেন , পারবেন ? এতে একজন অপরাধী ধরা পড়বে’

কিছুক্ষণ আমতা আমতা করে রাহেলা সম্মতি দিল৷

order, order… order in the court house 

সকাল ১১ টা,

কোর্ট হাউজের ব্যস্ত  বারান্দা দিয়ে রীতি মত দৌড়চ্ছে রিফাত, 

‘ভায়া রিফাত, টাইটা কি ঠিক আছে?’

‘ভায়া, তুমি টাই নিয়ে চিন্তা করছ? টাই আজ বাঁচাবে?’

‘হাহা, ভায়া have some faith’

দুজন তারা হুড়া করে ঢুকল কোর্ট রুম এ, পেছন পেছন এক গাদা ফাইল নিয়ে চুক্কু ও ঢুকল৷ আরেকটা মামলার কাজ চলছে যাক বাচা গেল৷ এখনো ওদের টা ডাকে নি৷ 

সকাল ১১.২৫

গলাটা একটু কেশে, পডিয়াম এর সামনে গেল পাবলিক প্রসিকিউটর , বেশ কিছুক্ষণ তার কাগজ পত্র গুছিয়ে একটা হাসি দিয়ে শুরু করল…

‘Your Honor, এই মামলাটা একদম সাদা মাটা৷ একজন হাসবেন্ড তার বৌকে খুন করেছে৷ খুনের কাড়ন তার হাসবেন্ড তাকে ব্ল্যাকমেইল করছিল৷ আমি জানি এখানে মানবিক বিষয় আসে, আবেগ এর বিষয় আসে কিন্তু মনে রাখতে হবে আইন এগুলোর উর্ধে৷ আইন অপরাধের শাস্তি দেয়, নির্দোষ কে খালাস দেয়৷ এই মামলায় আমি ২ জন সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব৷ যা কোনো সন্দেহের ঊর্ধ্বে প্রমাণ করবে যে মিস অরিন ই এই খুন টি করেছে৷ 

প্রথমেই আসি ঘটনার দিন ,  ঘটনার দিন  ৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায়, সন্ধ্যা ৬ টায় মি. আতিক তার নিজ বাসায় খুন হন৷ রাত ১০ টার কিতে পুলিশ কে ইনফর্ম করা হয় তারা নিকটস্থ হাসপাতাল থেকে মি. আতিক এর মৃত দেহ উদ্ধার করে৷ 

পোষ্ট মর্টেম রিপোর্ট বলে মি. আতিক সন্ধ্যা ৬ টার দিকে মারা গেছেন৷ তার মানে তার কিছু আগে অন্তত ৩০ মিনিট আগে তাকে বিষ খাওয়ানো হয়৷ উল্লেখ্য ঐ বাসায় মি. আতিক আর তার স্ত্রী মিস. অরিন শুধু এই দুজনই থাকতেন৷ 

যদিও মিস. অরিন ক্লেইম করেছেন তিনি ঢাকার বাইরে ছিলেন এবং ঐ দিন রাতে উনার কথা মত আনুমানিক ১০ টায় বাসায় এসে মৃত দেহ পান কিন্তু আমি প্রমাণ করব উনি ঢাকাতেই ছিলেন এবং খুন তিনিই করেছেন৷ That’s all your honor.’

‘মি. রিফাত আজিম আপনার ওপেনিং ‘ বলে রিফাত আজিম কে পডিয়াম এর সামনে আসতে বল্লেন জজ সাহেব৷ 

‘Your Honor, আমাদের  প্রসিকিউটর সাহেব অনেক কথা বলে গেলেন৷ আমি বেশি কথা বলব না৷ একটা কথাই বলব সত্য সত্যই, সত্যকে মিথ্যা করা যায় না৷ একজন নির্দোষ মানুষকে খুনের দায়ে কাঠগড়ায় দাড়া করিয়ে দেয়া এদেশে প্রতিনিয়ত চলছে৷ আপনার কাছে আমার একটাই আবেদন এই মামলাটির সব কিছু বিবেচনা করে আপনার প্রজ্ঞা দিয়ে আপনি বিচার করবেন৷ Thank you, your honor.’

রিফাত কথা শেষ করার পর পর ই প্রসিকিউটর তার প্রথম সাক্ষীকে ডাকলেন৷ কোর্ট রুমের বাইরে থেকে সাক্ষী কে ভেতরে নিয়ে আসা হল ৷ 

Oath নিয়ে সাক্ষী এসে কাঠ গড়ায় দাঁড়াল৷ প্রসিকিউটর জিজ্ঞেস করল

‘আপনার নাম ?’

‘স্যার, কাশেম আলী স্যার’

সাক্ষীর নাম টি টুকে নিলেন জজ সাহেব৷ সাক্ষী যা যা বলবে উনি তাই লিখে রাখবেন৷ 

‘আপনার পেশা মি. কাশেম আলী?’

‘স্যার, আমি একটা পরিবহন কম্পানিতে কাজ করি সার৷’

‘ঠিক কি করেন মি. কাশেম?’

‘স্যার বাস ছাড়ার জন্যে লাইনে আসলে আমি কাস্টমদের ব্যাগেজ গুলা নিয়ে বাসে তুলে দেই৷ আবার কোনো বাস আসলে আমি আমি মালামাল বাসের ব্যাগেজ কম্পারটমেন্ট থেকে বের করে দেই৷ তা ছাড়াও যখন যা লাগে করে দেই যেমন, রাতে বাস পরিষ্কার করা, ড্রাইভার দের খাওয়ানো এরকম আরো খুচরা যা কাজ দেয়া হয় করি৷’

‘আচ্ছা, ৯ জানুয়ারি তারিখে আপনি কোথায় ছিলেন মি. কাশেম’

‘স্যার আমি ৯ তারিখ ডিউটিতেই ছিলাম’ 

‘আসামির চেয়ারে বসা এই মহিলাকে কি আপনি আগে কখনো দেখেছেন ?’

‘জী স্যার, ৯ তারিখ সকালে উনাকে দেখেছি স্যার৷ উনি কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসা বাস থেকে ভোর আনুমানিক ৫ টায় নামেন৷’

কথাটি বলার পর পর ই কোর্ট রুমে একটা মৃদু গুঞ্জন উঠল৷ অরিন কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল৷ 

‘বিশ্বাস করুন রিফাত সাহেব, আমি ওদিন বাসে আসি নি, এই লোক মিথ্যা বলছে৷’

অভয় দিল রিফাত, ‘শান্ত হোন, চিন্তা করেন না, এরকম মিথ্যা , উল্টা পাল্টা সাক্ষী দিতেই পারে  কোনো সমস্যা নাই৷’

পাবলিক প্রসিকিউটর এবার কাশেম আলী কে জিজ্ঞেস করল 

‘দিনে কত গুলো বাস আসে মি. কাশেম?’ 

কাশেম উত্তর দিল ‘স্যার, দিনে তো প্রায় ৩০ টার উপর বাস আসে বিভিন্ন এলাকা থেকে মিলিয়ে৷’

‘মি. কাশেম আপনি বলছেন ৩০ টার বেশি বাস আসে আপনাদের বাসের সিট সংখ্যা কত ? ‘

‘স্যার প্রায় ৪৫ জন’

‘৪৫ গুন ৩০ মোট ১৩৫০ জন মানুষ৷ এত মানুষের মাঝে আপনার মিস. অরিনের কথা মনে থাকল ?’ কথা টা বলে একটা হাসি দিল প্রসিকিউটর যেন খুব চালাক একটা উত্তরের জন্যে অপেক্ষা করছে৷ উত্তর টা দেয়ার পর ই যেন তিনি আহা বলে লাফিয়ে উঠবেন… 

‘স্যার সবাইকে তো মনে থাকে না, কিন্তু উনাকে মনে আছে৷ উনার ব্যাগ টা আমি খুঁজে পাচ্ছিলাম না৷ উনার ব্যাগ এর জন্যে আমি প্রায় ৩০ মিনিট খোঁজাখুঁজি করেছি৷ উনার ব্যাগ খুঁজতে যেয়ে আমার আরেক বাসের যাত্রী উঠাতে দেরি হয়ে যাচ্ছিল৷ সুপারভাইজার রাগারাগি করছিল৷ মিস. অরিন যদিও আমার উপ রাগে নি বা তেমন কিছু বলে নি কিন্তু আমি পরিষ্কার বুঝতে পারছিলাম উনি বেশ বিরক্ত, এবং উনার কোনো তাড়া আছে৷’

‘Your Honor, আমার এই উইটনেস থেকে আর কিছু জানার নেই৷’

‘মি. রিফাত আপনার ক্রস  ‘ বলে রিফাত কে ডাকল জজ সাহেব বল্লেন

আপনার cross মি. রিফাত৷ 

রিফাত, পডিয়াম এর সামনে এসে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল অরিনের দিকে৷ তার পর কঠিন কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল

‘আপনার বয়স কত মি. কাশেম’

‘স্যার ৩২ হবে এই জুন মাসে৷’

‘৩২ হ্যাঁ!’

কথাটা বলতে বলতে প্রসিকিউটর সাহেব চিৎকার করে উৎল ‘  objection your honor, স্যার এগুলার মানে কি ? উনার বয়স দিয়ে কি করবে আমার বোধ গম্য না, কোর্টের সময় নষ্ট করার মানে কি?’ 

রিফাতের দিকে তাকিয়ে একটু টিটকারির সুরে হেসে জজ সাহেব বল্লেন মি. রিফাত প্রসিকিউসনের কথায় যুক্তি আছে কি বলবেন আপনি ? 

‘স্যার আপনি তো আমাকে চিনেন, আপনি একটু সময় দেন সব পরিষ্কার হয়ে যাবে’

‘becareful. objection sustained মি. রিফাত, সরি’

‘মি. কাশেম. এখন আপনি আমাকে বলেন, আপনি যে উনাকে identify করলেন, কিভাবে করলেন? কোনো পুলিশ আপনার কাছে এসেছিল?’

‘জি স্যার, ইন্সপেক্টর রাশেদ স্যার একদিন খোজ নিতে আসে৷ আমাকে আসামীর ছবি দেখায় আমি বলি উনাকে তো আমি দেখেছি৷ তার পরই আমার জবানবন্দি নেয় উনারা’

‘কবে দেখা করতে আসি মি. রাশেদ?’

‘স্যার ১১ তারিখে’

‘your honor আর কোনো প্রশ্ন নেই আমার৷’

‘আপনি জেতে পারেন মি. কাসেম৷’ 

প্রসিকিউশন এর পর ইনভেস্টিগেটর কে ডাকলেন 

‘মি. রাশেদ, আপনি তো এই কেইস এর ইনভেস্টিগেশন অফিসার তাই না ?’

‘জী’

‘আপনি কি বলবেন কেন আপনি মনে করছেন মি. অরিন ই তার হাসবেন্ড কে খুন করছেন?’

‘ওয়েল, দেখেন উনি প্রথম থেকেই মিথ্যা বলছেন, উনি আমাদের জানিয়েছেন উনি ঐ দিন ঢাকার বাইরে ছিলেন অথচ আমরা ইনভেস্টিগেশন করে জানতে পারলাম উনি সেদিন সকালেই ঢাকা এসেছেন  তা ও বাস এ , উনি আমাদের বলেছেন উনি এসেছেন ট্রেনে রাতে এসেছেন৷ উনি ওয়াইফ স্বভাবত ধরে নেয়া যায় উনি সেই খাবার রান্না করেছেন৷  উনার পক্ষে বিষ খাওয়ানোটাই সব চেয়ে সহজ৷  বলে রাখি  খাবার থেকে যে বিষ এসেছে সেটা ডক্টর রা আমাদের নিশ্চিত করেছে৷ আমাদের অভিজ্ঞতা বলে মানুষ মিথ্যা বলে কোনো অপরাধ থাকলে৷ উনি যদি অপরাধ না ই করতেন তাহলে এই মিথ্যা বলার প্রয়োজন ছিল না৷ ‘

‘কিন্তু ইন্সপেক্টর সাহেব, আপনারা কি আর কোনো প্রমাণ পেয়েছেন ? যে উনিই খুন করেছে?’

‘দেখুন আপনি যদি বলেন আমাদের কাছে খাবারে বিষ উনি মিশিয়েছে এমন কোনো eye withness আছে কিনা বা আমরা কোনো অডিও ভিডিও বা এমন কোনো প্রমাণ দিত পারব কিনা, তাহলে সরি,  আমরা এমন কোনো প্রমাণ দেখাতে পারব না৷ কিন্তু তার দরকার ও নেই৷ আমরা নির্দিষ্ট করে বলতে পারি উনি খনের সময় ঢাকায় ছিলেন৷ ওনারা শুধু হাসবেন্ড ওয়াইফ মিলে থাকে কোনো আলাদা কেউ নেই , কোনো কর্মচারী বা কেউ উনি নিজেই রেঁধেছেন এটা পরিষ্কার৷ এমন কি উনি এটা নিয়ে মিথ্যা বলেছেন যে উনি ঢাকা ছিলেন না৷ উনার কোনো অ্যালিবাই নেই এমন কি উনি কোনো টিকিট ও দেখাতে পারছেন না যে উনি ঐদিনের টিকিট কিনেছেন৷’

‘your honor, ইন্সপেক্টর সাহেব কে নিয়ে আমার আর কোনো প্রশ্ন নেই৷’

‘your cross Mr. Rifat’

জেরা করা শুরু করল রিফাত

‘সো মি. রাশেদ আপনি ১৫ তারিখ কাশেম কে জারা করেন আমি ঠিক বলছি কি ?’

‘জী’

‘জী ? মি. কাশেম আমাকে একটু আগে এই রুমের সবার সামনে বল্ল আপনি তার সাথে ১১ তারিখ দেখা করেছেন মি. রাশেদ’

‘ওহ , আচ্ছা , আম… সরি ভুল হয়ে গেছে ওটা ১১ তারিখ ই হবে৷’

‘really ? আপনি আন্ডার ওথ, একজন মহিলার জীবন মৃত্যু নিয়ে টানা টানি , এই যে দেখছেন ওনাকে (অরিন এর দিকে আঙ্গুল দিয়ে) ইনি আপনার টেষ্টিমনির জন্যে ফাঁশির কাস্টে ঝুলতে পারে আর আপনি বলছেন যে ভুল হয়ে গেছে? এই ইনভেস্টিগেশন এ আপনি আর কি ভুল করছেন মি. রাশেদ?’

‘objection your honor,…’

‘মি. আসিফ, overruled.‘

‘থ্যাংক ইউ your honor, যা বলছিলাম আর কি ভুল করেছেন?’

ইন্সপেক্টর জাজ এর দিকে তাকিয়ে একটা ঢোপ গিলে বল্লেন 

‘দেখুন সব ফ্যাক্ট আপনাদের কাছেই আছে৷ এই কেইস এ ইনভেস্টিগেশন করার খুব একটা কিছু নেই৷ মিস . অরিন মিথ্যা বলছে কেন বলছে ? নির্দোষ মানুষ মিথ্যা বলে না৷ যাদের কিছু লুকানোর থাকে তারা মিথ্যা বলে৷’

‘তার মানে আপনি আর কাউকে এই খুনের সাক্ষী হিসেবে ধরেন ই নি ?’

‘জী না ‘

‘that’s all your honor.’

রিফাত কথা শেষ করার পর প্রসিকিউটর দাড়িয়ে বল্ল that would be all your honor, prosecution rest . 

‘very well, মি. রিফাত…’

রিফাত দাড়িয়ে রাহেলাকে সাক্ষী হিসেবে ডাকল৷ রাহেলাকে ডাকার পর থেকে চুক্কু আর আরিফের মাঝে টেনশন কাজ করতে শুরু করল৷ মামলা মোটামোটা হারা নিশ্চিত যদি না এখন রিফাত কোনো একটা ম্যাজিক দিতে পারে৷ কি ম্যাজিক দিবে? এই মেয়ে কে সাক্ষী হিসেবে ডাকাই ভুল, কত করে বলেছে শুনল না রিফাত৷ টেনশন এ রিফাত এর ও ভেতরে ভেতরে অবস্থা খারা৷ রাহেলা কাঠগড়ায় দাড়িয়ে একটা হাসি দিল, হাসি দেশে রিফাত এর  মাথায় আগুন জ্বলে গেল৷ রিফাত নিজেকে বুঝাল মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে , রিফাত ও একটা ভুবন ভোলানো হাসি দিয়ে শুরু করল

‘মি. রাহেলা ৯ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে আপনি কোথায় ছিলেন?’

‘আমি কমলাপুর ট্রেন স্টেশনে ছিলাম’

‘মিস রাহেলা আপনি যখন ঢাকায় পৌঁছুলেন আপনি তখন কোন দিকে বসে ছিলেন ?

‘আমি আইলের পাশের সিটে বসে ছিলাম৷ আইলের ডান দিকে যেদিকে ট্রেন চলে ওদিক মুখ করে তাকালে ডান দিকে৷’

‘মিস. অরিন কোথায় বসে ছিল ?’

‘সে আমার ডান পাশে বসে ছিল৷’

উত্তর টা শোনার পর পরই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেল্ল আরিফ আর  চুক্কু৷ কিন্তু রিফাত জানে যদিও একটা বড় বিপদ গেছে আরো বড় একটা বিপদ এখনো আছে৷রিফাত জানত মিস. রাহেলা বলবে না যে অরিন ট্রেনে ছিলই না৷ এটা বল্লে তার নিজের রিস্ক বেশী৷ রিফাত জানত প্রসিকিউটর আসিফ অত কাঁচা মানুষ না৷ হঠাৎ যদি এখন রাহেলা স্ট্যান্ড এ এসে বলে আমি ওই মেয়ে কে দেখি নি৷ আমি আরেক জনকে দেখে ভুল বুঝেছিলাম৷ তাহলে তা সন্দেহ জনক লাগবে৷ রাহেলা যদি টাকা খেয়ে থাকে তাহলে সে হয় আজ সাক্ষী দিতে উপস্থিত ই হবে না৷ কিন্তু যদি উপস্থিতহয় তাহলে পুরো  গল্পটা উল্টাবে না৷ বরং বলবে অরিন ট্রেনে ছিল কিন্তু কখন উঠেছে বলতে পারব না, হয়তো বলবে আমি তাকে ঢাকার কাছা কাছি কোনো স্টেশনে ট্রেন আসার পর দেখেছি৷ 

ধন্যবাদ মিস. রাহেলা৷

‘মিস্টার. আসিফ আপনি ক্রস এক্সামিনেশন করতে পারেন’ 

প্রসিকিউটর আসিফ মোটেই রেডি ছিল না, তার মাথা ভন ভন করে উঠল৷ আসল কথা টাই বের করা গেল না৷ মনে মনে ও ভাবল সমস্যা নাই আমি নিজেই করব৷ উঠে দাঁড়াল আসিফ, জিজ্ঞেস করল

‘মিস রাহেলা আপনি ট্রনে তো কিশোরগঞ্জ শহর থেকে উঠেছেন তাই না ?’

‘objection your honor, প্রশ্ন টি ঠিক হয়নি, এই প্রশ্ন উনি করতে পারেন না!’

‘really ? your honer?’ বলে রাগে চিৎকার করে উঠলেন৷

একটু হেসে রিফাত বল্ল 

‘মি. আসিফ হয়তো ভুলে গেছেন your honor, ক্রস এক্সামিনেশন এ শুধু মাত্র ঐ বিষয় গুলো নিয়েই প্রশ্ন করা যায় যেই বিষয় গুলো ডাইরেক্ট এক্সামিনেশনে করা হয়েছে৷ আপনি যদি রেকর্ড দেখেন your honor, দেখবেন কোথা থেকে উঠেছে এ নিয়ে আমি কোনো প্রশ্ন করিনি !’

জজ সাহেব ভ্রু তে একটা দাগ ফেলে তার চশমার ফাঁকা দিয়ে রিফাতের দিকে তাকাল৷ একটু হেসে বল্ল

‘মি. আসিফ, মি. রিফাত ঠিক বলছেন, আপনি এই বিষয় এ প্রশ্ন করতে পারবেন না৷ ‘

হতাশায় দুই হাত ঝুলে পড়ল আসিফ এর, বুকের ভেতর জেন হাতুড়ি পেটাচ্ছে৷ 

‘তবে your honor, মিস. আসিফ যদি চান  তাহলে উনি মিস. রাহেলাকে withness for prosecution করতে পারেন’ 

কথাটা বলে একটা মুচকি হাসি দিল রিফাত, দিয়ে আরিফ এর দিকে তাকাল৷ চুক্কু আরিফ কে বল্ল 

‘স্যার করছে টা কি৷ কেইস টা কি উনি হারতে চায় ? withness for prosecution মানে!’ 

ওর কথা টা কেড়ে নিল আরিফ

‘মানে এখন মি. আসিফ কোথা থেকে উঠেছে  জিজ্ঞেস করতে পারবে৷ মানে রিফাত নিজে কষ্ট করে  যা একটু damage control করেছিল তা আর থাকল না৷  কোথা থেকে উঠেছে এই বিষয়ে কথা বলতে দিতে দিচ্ছিল না কিন্তু এখন তো এটা আসিফ জিজ্ঞেস করতে পারবে৷’

মিস. আসিফ যেন হাতে চাঁদ পেল, 

অনুমতির জন্য জজ এর দিকে তাকাল জজ অনুমতি দিল৷

এক গাল হাসি নিয়ে বল্ল

‘ধন্যবাদ মি. রিফাত, মিস. রাহেলা, আপনি জানুয়ারির ৯ তারিখ কোথায় ছিলেন ? 

‘স্যার, আমি দুপুর পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ ছিলাম, সেখান থেকে এগারসিন্দুর ট্রেনে রওনা দিয়ে রাতে ঢাকা পৌছাই৷’

‘আপনি কখন প্রথম মিস. অরিন কে দেখেন?’

‘স্যার, ট্রেনে’

‘কিশোরগঞ্জ থেকেই উনি আপনার পাশের সিটে ছিলেন অথবা আপনি তাকে দেখেছেন?’

‘না স্যার, আমি তাকে প্রথম দেখি ঘোড়া শাল এর পর৷ ওখান থেকে ট্রেন ছাড়ার পর  মিস. অরিন আমার পাশে এসে বসেন৷’

‘ধন্যবাদ মিস. রাহেলা , that would be all your honor. ‘

কথা টা মিস্টার আসিফ শেষ করার সাতে সাথে রিফাত দাড়িয়ে বলে উঠল 

‘স্যার  এই  মামলায় যেহেতু  মিস. রাহেলা প্রসিকিউশন এর উইটনেস হয়ে সাক্ষী দিল আমি তাকে ক্রস এক্সামিনেশন করতে চাই !’

আদালত পাড়ায় বিশাল একটা গুঞ্জন শুরু হল৷ জজ সাহেব হাতুড়ি বাড়ি দিয়ে বল্লেন order, order please. তার পর বল্লেন 

‘মি. রিফাত you are a piece of work’

আত্ম পক্ষ সমর্থন করে চেয়ে রিফাত কিছু একটা বলতে চাইছিল, জজ সাহেব রিফাত কে থামিয়ে বল্ল 

‘করুন প্রশ্ন করুন’

প্রসিকিউশন কোনো একটা প্রতিবাদ করতে চাইছিল জজ সাহেব আবার থামিয়ে বল্ল 

‘stop it মি. আসিফ , আইনত উনি allowed.’

রিফাত শুরু করল 

‘ মিস রাহেলা আপনি চোখে এটা কি পড়ে আছেন বলবেন কি ?’

‘objection your honor, আমি withness কে  উনার চোখ নিয়ে কোনো প্রশ্ন করি নি’ কথাটা বলে বিশাল একটা হাসি দিল আসিফ৷ ঠিক ওরকম ই একটা হাসি দিয়ে রিফাত বল্ল

‘your honor, প্রসিকিউটর মিস. অরিন কে কখন দেখেছে তা নিয়ে প্রশ্ন করছেন৷ যেহেতু এটি তার চোখ দিয়ে দেখতে হয়েছে তার চোখ কতটুকু নির্ভরযোগ্য আমি তা টেস্ট করতেই পারি৷’

ঘটনা কি ঘটছে কোর্ট হাউজের এই রুমে কেউ কিছু বুঝতে পারছে না৷ সবাই যখন puzzle তখন বেশ বিরক্ত সহকারে জজ আসিফ কে বল্লেন, unfortunately মি. আসিফ উনি আবার ও  ঠিক বলেছেন৷ তিনি overruled করে দিলেন objection. হতাশায় দুমড়ে মুষড়ে উঠল আসিফ৷ ও বুঝতে পারছে এ খেলায় ও হেরে যাচ্ছে৷ অত্যন্ত সু কৌশলে রিফাতের দেয়া সব গুলো trap এই ও পা দিয়েছে৷ রাহেলাকে প্রসিকিউশন এর উইটনেস না বানারে মামলা অনেক আগেই শেষ হয়ে যেত৷ কিন্তু ও এখনো বুঝতে পারছে না রিফাত করতে চাইছে কি ? চোখে সমস্যা আছে এটা প্রমাণ করে তো এই মামলা ও জিততে পারবে না৷ 

রিফাত তার প্রশ্ন শুরু করল  

‘ আপনি কি বলবেন এই রকম চশমা আপনি কেন পড়ে আছেন?’

‘আমার চোখে ইনফেকশন হয়েছে আমি এক চোখে ভাল দেখি কিন্তু দুই চোখে দেখতে গেলে ঠিক মত দেখি না৷ ঘোলা আর ডাবল দেখি৷’

‘ট্রনে ও কি আপনি এটি পড়ে ছিলেন ?’

‘বেশিরভাগ সময় ই পড়ে ছিলাম’

‘তার মানে আপনার চোখের সমস্যা বেশ জটিল’

চুক্কু আরিফ কে বল্ল, স্যার এই মেয়ে কানা প্রমাণ করা গেলে আমাদের লাভ টা কি ? স্যার করতে চাচ্ছে টা কি ? 

আরিফ ঝারি দিয়ে চুক্কু কে চুপ করিয়ে দিল৷ আজ ও শুধুই দর্শক অনবদ্য এ রহস্যের প্যাচ না খোলা পর্যন্ত ও শুধুই দর্শক৷ 

‘দেখুন এটা temporary একটা সমস্যা৷ পার্মানেন্ট কিছু না’ কথা টা বলার পরই বোঝা গেল রাহেলার ego তে খুব লেগেছে৷  রিফাত মনে মনে ভাবল এটাই চাইছিলাম৷ সে প্রশ্ন করল 

‘আপনার চোখ যখন এতই ভাল আপনি কি বলতে পারবেন অরিন সেদিক কি পোষাকে ছিল?’

‘অবশ্যই , অরিন হলুদ রঙ্গের একটা পায়জামা পড়ে ছিল,আর লাল ওড়না৷ তবে ও তার উপর কাল বোরকা পড়ে ছিল বেশির ভাগ সময়৷ হিজাব ও করা ছিল’

‘আপনার স্মৃতি শক্তি তো খুব ভাল দেখা যাচ্ছে মিস রাহেলা, তো ট্রনে তো আপনি একা ছিলেন না, আপনার সামনে কে ছিল সে কি পড়ে ছিল, সে কি পুরুষ না মহিলা ছিল? উত্তর টি দেয়ের আগে ভেবে দিন কাড়ন মিস অরিন বলতে পারবে কে ছিল’

যদিও মিস অরিনের কোনো আইডিয়াই নেই কে কি পড়ে বসে ছিল কিন্তু সে এমন চোখ করল দেখে মনে হল সে আসলেই জানে৷ রাহেলা অনেক্ষন কোনো কথা বল্ল না 

 ‘কি পড়ে ছিল তারা?’

‘এত কিছু কি মনে রাখা যায়? আমি কি ট্রেইন এর সবাই কে কি পড়েছিল এখন হিসাব দিব?’

‘আপনি মিস অরিন কি পরেছিল পাই পাই হিসেব দিয়ে দিলেন অথচ আপনার আশে পাশে আর কে কে পড়ল এমন কি আপনার ঠিক সামনে যে বসল তার টা বলতে পারলেন না? ট্রনে তো একজন আরেকজনের দিকে মুখ করেই বসে৷ আপনি নিশ্চিত আপনার চোখে সমস্যা নাই? আপনি ঠিক ঠাক দেখেছেন? হয়তো অরিন আপনার পাশেই ছিল চোখের সমস্যার কাড়নে খেয়াল ই করেন নাই হতে পারে কি তা ?’

‘না মোটেই না’

‘আপনার চোখ নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে আপনি আপনার চোখের একটা টেস্ট নিব, your honor  আপনি যদি অনুমতি দেন’

জজ সাহেব মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিল 

রিফাত পুলিশ ইনসপেক্ট এর কাছে গিয়ে দাড়ার, উনার মাথায় হাত দিয়ে বল্ল উনি কে? 

‘ইন্সপেক্টর রাশেদ, উনি মামলার তদন্ত করেছেন’

এবার রিফাত এর সামনে যেয়ে বল্ল উনি 

‘মি. আরিফ, আপনার সহকারী’ 

এবার রিফাত কাশেম আলি যে, অরিন কে বাস স্ট্যান্ড এ দেখেছিল তার মাথায় হাত রাখল 

রাহেলা উত্তর দিল 

‘ কাশেম আলী, উনিই অরিনকে বাস স্ট্যান্ড এ ঐ দিন সকালে দেখেছিলেন ‘

উত্তর টা শুনে একটা অট্ট হাসি দিল রিফাত, জিজ্ঞেস করল 

‘আপনার চোখ একে বাড়ে ঠিক আছে মি. রাহেলা, কিন্তু আমার প্রশ্ন হল আপনি মি. কাশেম কে চিনেন কিভাবে ? উনি তো মি. আসিফ এর withness, আর উনি যে অরিন কে বাস স্ট্যান্ড এ দেখেছে আপনি তা জানলেন কি করে ? আপনি তো তখন এই রুমের বাইরে ছিলেন’

রিফাতের কথা টা শুনে দাড়িয়ে গেল আরিফ আর চুক্কু একজন আরেক জনের মুখ চাওয়া চাওয়ি করল, মিস. রাহেলার গাল নাক আগুনের মত লাল হয়ে গেল৷ মাথা টা ভন ভন করছে৷ ফেঁসে গেছে ও জানে খুব ভাল করেই৷ এই বদমাশ রিফাত এডভোকেট ধরে ফেলেছে৷ মাথা দ্রুত কাজ করছে রাহেলার৷ ওদিকে রিফাত চিৎকার শুরু করল ‘বলুন মিস. রাহেলা জবাব দিন, আদালত জানতে চায় আপনি কি ভাবে জানলেন’

আসিফ দাড়িয়ে ছিল সে বসে পড়ল, ভয়ে তার পা কাঁপছে, ওর কাছ থেকে যে এসব রাহেলা জেনেছে এসব যদি এখন বলে দেয় লাইসেন্স টা হারাবে ও৷ সিরিয়াস বিপদে পড়বে পরিবার নিয়ে৷ সৃষ্টিকর্তার নাম ডাকা শুরু করল ও৷ অবস্থা খারাপ দেখে 

‘বিশ্বাস করুন সার আমার দোষ নাই, এই যে সব দোষ এই কাশেম আলির, অরিন এর হাসবেন্ড ওরে দিয়ে ব্ল্যাক মেইলের টাকা উঠাত, যে বিকাশ নাম্বারে অরিন টাকা পাঠাত এটা এই কাশেম আলির নাম্বার আপনারা চেক করে দেখতে পারেন৷ সোনার ডিম এর পুরোটা পেতে চেয়েছিল এই কাশেম আলী৷ প্রতি মাসে সে ফোন দিয়ে টাকা চাইত অরিনের হাসবেন্ড এর হয়ে, ও একদিন ভাবল টাকার বেশির ভাগ তো অরিনের হাসবেন্ড ই নিয়ে যায়৷ তাকে সরিয়ে দিলে তো  প্রতি মাসে টাকা ওই পাবে৷’

কথা শুনে কাশেম আরি দৌর দিল একটা, কোর্ট হাউজে হট্টগোল শুরু হল৷ 

জজ সাহেব বল্লেন 

‘হচ্ছে কি এসব, will some one explain to me?’ 

কথাটার উত্তর জজ সাহেব someone এর কাছ থেকে চাইলেও কড়া চোখে রিফাত এর দিকে তাকাল৷ রিফাত অনেক কষ্টে হাসি ধরে রাখতে পারল না৷ ভুস করে মুখ দিয়ে হাসি বেরিয়ে গেল… 

জজ সাহেব বল্লেন

‘order, order… order in the court house’

ভীষণ বিরক্ত উনি৷