সময়

এই নিন আপনার পানি , কি ব্যাপার বলুন তো, আপনাকে তো চিনতে পারলাম বলে মনে হয় না ৷ বলে ভ্রু টা একটু কুচকে তাকালেন আজির সাহেব ৷ আজির সাহেব বেশ অধৈর্য মানুষ বলা চলে ৷ তার মাঝে বয়স বাড়লে নাকি মানুষের মেজাজ খিট মিটে হয় আরও বেশি ৷ তাই হবে হয়তো ৷ তার সামনে বসা একটা তরুণ বয়সের যুবক ৷ ছেলেটার চোখে চশমা, পড়নে একটা পাঞ্জাবী ৷ এই বয়সে ছেলে পেলেরা তেমন একটা পাঞ্জাবী পড়ে না ৷ পা থেকে মাথা পর্যন্ত একবার চোখ বুলিয়ে – এই যে শুনছেন কি চাই ? বলে মোটা-মোটি একটা ধমক দিল আজির সাহেব ৷ আজির সাহেবের ধমক শুনে কিছুটা থতমত খাবে বলে ভাবলে ও ছেলেটার মাঝে তেমন বলার তেমন কোনও লক্ষণ দেখতে পেল না আজির সাহেব ৷

মহা বিরক্ত হলেন তিনি, শুরু করলেন , দেখ আমি খুবই ব্যস্ত মানুষ তোমার সাথে বাবা ফালতু সময় নষ্ট করার পরিস্থিতি আমার নাই ৷ ১ মাস ও নাই ঈদ এর এই ম্যাগাজিন সেই ম্যাগাজিন সবার এক কথা আমার লেখা তাদের ঈদ সংখ্যায় চাই ৷ আর তুমি…. কথা টা শেষ করতে পারলেন না আজির সাহেব ৷ ছেলেটা বলে উঠলেন ঠাণ্ডা পানি ! ভীষণ চটে উঠলেন আজির সাহেব , উচ্চ স্বরে বলে উঠলেন দেখ ছেলে তুমি আমার ছেলের বয়সী হবে বেয়াদপী করছ আমার সাথে ? বাসায় ধুকতে দেওয়াই ঠিক হয়নি দেখছি ৷ আজির সাহেব রাগলে কোনও কিছু থাপড়ান , উনার সামনে কোনও টেবিল নেই তাই সোফার হাতল থাপড়াতে থাপড়াতে কথা গুলো বললেন ৷

ছেলেটা বলে উঠল , দেখুন আপনি আমার ভীষণ শ্রদ্ধার পাত্র আপনাকে অপমান করার প্রশ্নই … কথা টা বলতে শেষ করার আগেই আজির সাহেব বলে উঠলেন আরে রাখ তোমার ধানাই পানাই , মতলব টা কি সেটা পরিষ্কার কর !

ছেলেটাকে বেশ স্বাভাবিক ই মনে হল, কোনও ভাব লেশ হীন একটা অভিব্যক্তি, সেটা আজির সাহেব কে আরও খেপিয়ে তুলছে ৷ অবশেষে ছেলেটা বলল আমি আপনার “রস” উপন্যাসটির একজন ভক্ত ৷ আজির সাহেব বলে উঠলেন তো এখন আমি করব টা কি ?
ছেলেটা বলল জি একটু ধৈর্য ধরুন বলছি ৷ আজির সাহেব মনে মনে ভাবলেন বলে কি ব্যাটা ধৈর্য ধরতে ?? ফাজলামির একটা সীমা থাকা দরকার ৷
ছেলেটা বলল যেটা বলছিলাম আপনার উপন্যাস টি খুব ভাল লাগছে ৷ কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আপনি যেই পত্রিকায় এ উপন্যাসটি লিখেন সেই উপন্যাস তারা প্রতি সপ্তাহে একবার ছাপায় ৷ আজির সাহেব বললেন হু তাতে দোষের কি আছে ?
ছেলেটি যেন আজির সাহেবের কথায় গুরুত্ব দিল না, সে বলে গেল , যেহেতু তারা মাসে একবার ছাপায় উপন্যাস টি শেষ হতে আরও দুই মাস লাগবে ৷ আপনার কাছে আমার অনুরোধ আপনি আমাকে বাকি উপন্যাস টুকু পড়তে দিন ! আমি এখানে বসেই পড়ে যাব ৷ সেই পত্রিকা কিনতে যত টাকা লাগে আগামী দুই মাস এ , আমি আপনাকে তা ও দিয়ে যাব ৷ আপনি কি আমাকে এই উপকার টুকু করবেন ?

এবার আর পারলেন না আজির সাহেব ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ! তার মাথার ভেতর যেন একটা বিস্ফোরণ হয়েছে ৷ তিনি তবু নিজেকে সংযত করলেন ৷ করে উঠে দাঁড়ালেন বললেন বের হও ৷ এখুনি বের হও আমার বাসা থেকে ৷ ছেলেটা সেই ভাবলেশহীন চেহারাটা নিয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল ৷ তার পর বের হয়ে চলে যাওয়ার সময় লেখক কে বললেন স্যার লেখক দের অনেক শক্তি তারা সৃষ্টি করে, জীবন দেয় কখনো কখনো ধ্বংস করে, কখনো ভালবাসায় কখনো কাঁদায় ৷ একজন মানুষের কাছে এত ক্ষমতা থাকা বোধয় ঠিক না স্যার ৷ ছেলেটা চলে গেল, আজির সাহেব বেশ অপমানিত বোধ করছেন ৷ এত টুকুন পুচকে ছেলে কত বড় কথা ৷

ছেলেটা যখন বাসায় পৌঁছুল তখন সন্ধ্যা হয় হয় করছে ৷ ছেলেটা মা কে বলল মা তোমার কথাই ঠিক ৷ মা এর চোখে জ্বল টল মল করছে ৷ মনে মনে ভাবলেন খোদা তুমি খুব নিষ্ঠুর ৷ খুব বেশি কিছু চাই না তোমার কাছে মাত্র দুটো মাস আর কিচ্ছু চাই না ৷

মুক্তিযুদ্ধের এক টুকরো ইতিহাস

বাংলাদেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল ৷ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার দায়ে ১৭ই সেপ্টেম্বর দেশটির সুপ্রিম কোর্ট আবুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসীর আদেশ দেয় ৷ আবুল কাদের মোল্লা জামাত ই ইসলাম এর একজন নেত্রী স্থানীয় সদস্য ৷ গত ফেব্রুয়ারিতে যখন বাংলাদেশী আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে যাবত জীবন কারাদণ্ড দেয় তখন হাজার হাজার বাংলাদেশী রাস্তায় নেমে আসে এবং তার ফাঁসী দাবি করে ৷ এর পর থেকে সাজার পক্ষ এবং বিপক্ষের ১০ জনের বেশী মানুষ প্রতিবাদ এ মারা যায় ৷

আমেরিকানের কাছে এই সংবাদটি হয়তো অপ্রাসঙ্গিক অথবা অপ্রয়োজনীয় মনে হবে কিন্তু এই ঘটনার অনেক দায় আমেরিকার উপর ও পড়ে ৷ বাংলাদেশের এই  সমস্যার উপপত্তি হয় ১৯৭১ সালের  দেশটির স্বাধীনতার সময় সেই প্রজন্মের উপর গণহত্যা ও নির্যাতনে যখন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড এম. নিক্সন এবং হেনরি এ. কিসিনজার, তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সরাসরি সমর্থন দেয় ৷

ভারত উপ-মহাদেশ ভাগ হওয়ার সময় ১৯৪৭ সালে একটি মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে  একত্রিত পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠন করা হয় ৷ যেখানে এই পাকিস্থান রাষ্ট্রটির ভৌগোলিক অবস্থান ছিল অত্যন্ত উদ্ভট ভাবে বিভক্ত ৷  প্রভাবশালী পশ্চিম পাকিস্তান (বর্তমান পাকিস্তান) এবং পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) এর মাঝে ভারত দাড়া হাজার হাজার মাইল বিভক্ত ছিল ৷ পাকিস্তানি রা ব্যঙ্গ করে বলত তাদের দেশ ইসলাম এবং পাকিস্তান আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর দাড়া সংযুক্ত ৷  এই অদ্ভুত বন্দোবস্ত ১৯৭০ পর্যন্ত টিকে ছিল যত দিন না বাঙ্গালীরা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা  লাভ করে,  এর ফলে পশ্চিম পাকিস্তান এর সামরিক সরকার ক্ষমতা হারানোর ভয় পায় ৷

২৫ মার্চ , ১৯৭১ , পাকিস্তান আর্মি বিদ্বংসী ভাবে ঝাঁপিকে পরে বাঙ্গালীদের উপর ৷ যুদ্ধের মাঝা মাঝি সময়ে সি. আই. এ এবং  স্টেট ডিপার্টমেন্ট ২ লাখ মানুষ এর মৃত্যু নিশ্চিত করে (বাংলাদেশ সরকার এর মতে এই সংখ্যা অনেক বেশী, অন্তত ৩০ লাখ) ৷ ১ কোটি মানুষ শরনার্থী হিসেবে ভারতে আশ্রয় নেয় ৷ অত্যন্ত করুন জীবন যাত্রা এবং পথে পথে মৃত্যু ছিল তাদের সঙ্গী ৷

সাম্প্রতিক ডিক্লাসিফাইড (কোনো গোপনীয় বিষয়কে আর গোপন না রাখা) দলিল পত্র এবং হয়াইট হাউস তথ্য মোতাবেক জানা যায় নিক্সন এবং কিসিঞ্জার পাকিস্তানী জেনারেলদের হত্যকান্ডে সমর্থন দিয়ে গেছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। এই হত্যাকান্ড মানব ইতিহাসে ভয়ঙ্কর তম এর মাঝে একটি ধরা হয় ৷

এটা অবশ্যই সত্যি যে কোনো দেশই , এমনি আমেরিকা ও পৃথিবীর সব ব্যাপক হত্যাকান্ড থামাতে পারবে না  -কিন্তু পাকিস্তান এবং আমেরিকা ছিল অত্যন্ত বন্ধু ভাবাপন্ন দেশ ৷ যার ফলে পাকিস্তান বন্ধুত্ততা এর সুবাদে আমেরিকার অস্ত্র এবং সামরিক রসদ ব্যবহার করেছিল বাঙ্গালীদের উপর৷

নিক্সন এবং কিসিঞ্জার খুবই নগন্য ভাবে ও পাকিস্তান সামরিক সরকার এর উপর চাপ প্রয়োগ করে নি ৷ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যখন ২৫ মার্চ হত্যাযগ্য শুরু করে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী, তখনও আমেরিকা, পাকিস্তানি জেনারেলদের সাধারন মানুষ হত্যা না করতে সতর্ক না করার সিদ্ধান্ত নেয় ৷ তারা পূর্ব পাকিস্তানকে নির্বচনের রায় মেনে নিতে কিংবা  পাকিস্তান সামরিক সরকারকে বাঙ্গালীদের সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে ও চাপ প্রয়োগ করে নাই ৷ তারা পাকিস্তানি সামরিক জান্তাদের উপর নিষেধাঞ্জা জারির সতর্কতা ও জারি করে নি যা কিনা সামরিক জান্তাদের অমানবিক হওয়া থেকে বিরত করতে পারত ৷ এমন কি হত্যকান্ড শুরু হওয়ার পর ও অর্থনৈতিক এবং সামরিক সাহায্য বন্ধের ভয় প্রদর্শন ও করে নি ৷

নিক্সন এবং কিসিঞ্জার  এর এই হত্যযগ্য বন্ধে পাকিস্তানকে চাপ প্রয়োগে উৎসাহ না থাকার কারন যে শুধু মাত্র আদর্শিক অবক্ষয় তা নয় ৷ এর পেছনে ছিল সভিয়েত ইউনিয়নের প্রতি ভারত এবং চায়না এবং পাকিস্তানের বন্ধু ভাবাপন্ন সম্পর্ক ৷   হয়াইট হাউসের টেপ থেকে নিক্সন এর রেগে ফেটে পড়ার দৃশ্য নিক্সনের নিয়মিত নীচ মনোবৃত্তিসম্পন্ন মানুষিকতাকে ও হার মানায় ৷ ওভাল অফিসে নিক্সন ,  কিসিঞ্জার কে বলে ইনডিয়ানদের দরকার “একটি ব্যপক দূর্ভিক্ষ” হাসতে হাসতে কিসিঞ্জার যোগ করে “মূমুর্ষ বাঙ্গালীদের জন্য যাদের রক্তক্ষরণ হয়”

পশ্চিম পাকিস্তানে নিযুক্ত আমেরিকার সাহসী সিনেট কনসুল জেনারেল আরচার কে. ব্লড এর বিস্তারিত রিপোর্ট সত্যেও হত্যযগ্যের ঘটনা , বাঙ্গালীদের দুর্বিষহ কষ্ট তাদের বিচলিত করে নি ৷ কেনেথ বি. কিয়াটিং ,যখন নিউ ইয়র্কের সাবেক রিপাব্লিকান সিনেটর এবং তৎকালীন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ইন্ডিয়ায় নিযুক্ত ছিলেন  তিনি নিজে ওভাল অফিস এ মুখোমুখি হন “গনহত্যা” এর ব্যাপারে ৷

যখন মি. ব্লড এর কনসুলেট এর টেলিগ্রাম আমেরিকান নীতিমালার সাথে ভিন্নতম প্রকাশ করলেন এবং এটিকে গনহত্যা হিসেবে অবহিত করলেন নিক্সন এবং কিসিঞ্জার,  মি. ব্লড কে তার পদ থেকে সরিয়ে দিলেন এবং কনটেম্প এর ভয় দেখালেন ৷ কিসিঞ্জার ব্যক্তিগত ভাবে মি. ব্লড কে “উন্মাদ” এবং নিক্সন মি. কিয়েটিং কে “বিশ্বাসঘাতক” হিসেবে অবহিত করলেন ৷

 GARY J. BASS এর লেখা Nixon and Kissinger’s Forgotten Shame  অবলম্বনে সংশোধিত এবং সংকলিত ৷

নীল আর কাল

সামনে সীমাহীন নীল ৷ যত দূর চোখ যায় চারি দিকে কেউ নেই ৷ শীতের ভোরের কন কনে ঠান্ডা  বাতাস ৷ কুয়াশা ভেজা বালু চড়ে এক মনে বসে আশে শান্ত ৷ কি যেন অজানা সব চিন্তার মাঝে হারিয়ে গেছে ৷ এভাবে কতক্ষণ বসে আছে তার কোনও হিসেব নেই ৷ গত ১ মাস এভাবেই চলছে ওর ৷ প্রতিদিন নিয়ম করে ভোর বেলায় সূর্য উঠার আগে এসে বসে  পৃথিবীর দীর্ঘতম সৈকত এ ৷ আবার সৈকত মানুষের কল কাকলীতে ভড়ে ওঠার আগেই চলে যায় ৷ একটা বোট নিয়ে যত দূর সম্ভব চলে যায় ৷ মানুষের কোলাহলের প্রতি যেন একটা বিতৃষ্ণা জন্মেছে ওর ৷ দূরে অনেক দূরে যেখানে মানুষের কোলাহল পৌঁছে না সেখানে বোট ভাসিয়ে বসে থাকে ৷ বিশাল এই সমুদ্রের মাঝে নিজেকে তখন কত্ত ছোটো লাগে ৷ সবচেয়ে অবিশ্বাস্য লাগে রাতে ৷ বিশাল এক সমুদ্রে ঘুট ঘুটে অন্ধকার ৷ যেদিকে তাকাও অন্ধকার ৷ যেন অন্য এক জগৎ ৷ ইচ্ছে করে শান্ত বোটের লাইট গুলোও জ্বালায় না ৷ কিছু কিছু অনুভূতি আছে ভাষায় প্রকাশ করার মত না ৷ এই অনুভূতিটা হয়তো সেরকম কিছুই হবে ৷

বোটের এক কোনে হেলান দিয়ে শান্ত প্রকৃতিকে উপভোগ করার চেষ্টা করে ৷ কখনো সমুদ্রের ভয়ংকর গর্জনে বুক কেপে উঠে ৷ আবার কখনো মৃদু ঢেউ এ মনটা অনন্দে ভরে উঠে ৷ কখনো আকাশের দিকে তাকিয়ে তারার রাজ্যে হারিয়ে যায় ৷ কল্পনা আর অসাধারণ অনুভূতি মিলিয়ে কখনো গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে মনের কল্পনা  ছুটে চলে অমনি হয়তো দূর থেকে কোনও বোটের শব্দ কল্পনায় ব্যাঘাত ঘটায় ৷  তখনি আবার আরও দূরে চলে যায় আরও দূরে যেখানে মানুষের কোলাহল নেই ৷

রাত ১২:০১

লেখাটি আমার বন্ধু অনিক  কে উৎসর্গ করলাম, ওর কাছে রাত আমার মতই অদ্ভুত সুন্দর সময় , আবার কখনো হারিয়ে খুজে সেই রাতগুলোকে….

রাত ১২.০১

এখন
রাত ১২.০১ আমার ঘুম থেকে উঠার সময়৷ যেমনটি গত কাল ও ছিল৷ গত কাল ১২.১০
এর দিকে বারান্দায় যেয়ে বসে ছিলাম৷ একটা গান শুনছিলাম৷ গানটা স্বপ্ন
নিয়ে৷ গান শুনছিলাম আর মাঝে মাঝে কয়েকটা সাইট রি ফ্রেশ দিচ্ছিলাম৷ মাঝে
মধ্যে বাইরে ও তাকাচ্ছিলাম৷ ১২.০১ ঢাকা শহরে তেমন রাত না হলেও আবার অনেক
রাত৷  অল্প কিছু মানুষ যাচ্ছিল মাঝে মধ্যে৷  হঠাৎ দেখলাম একটা ছেলে ! আমার
মত বয়স ই হবে কি যেন ভাবলাম … ২ মিনিট দৌরে বাইরে নিচে নামলাম৷ ৫ তলা
থেকে নামতে ৩ মিনিট এর মত লাগে৷ কিন্তু সেই তিন মিনিট এর সিড়ি ১ মিনিট এর ও
কম এ নামলাম৷ ৩৪ সেকেন্ড ঘড়ি ধরে ৷ বেরিয়েই চিৎকার করে দারোয়ান কে
বল্লাদ জলদি খুলেন৷ দারোয়ান আর গেট তখন অনেক দুরে দৌরে বেরুলাম আরো ৫
সেকেন্ড৷ বেরিয়ে যেদিকেই ছেলেটাকে যেতে দেখেছিলাম৷ সেদিকে তাকিয়ে দেখি
কেউ নাই৷ সামনে বিশাল রাস্তা পুরো ফাকা৷ ভাবলাম শিল্পকলার গলি দিয়ে গেছে
হয়তো৷ অথবা জি টিভি এর গলি দিয়ে৷ দৌর….

শিল্প কলার গলি দিয়ে
দৌরে যেয়ে দেখি একটা ছায়া মত ৷ আরো জোরে দৌরালাম৷ আমার দৌরের শব্দ হয়তো
লোকটা পেয়েছিল সে পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখল আমাকে৷ আমি দৌর থামিয়ে দিলাম৷
হাপাতে হাপাতে আবার উল্টদিকে দৌর ৷ এবার গেলাম জি টিভি এর গলির দিকে ৷
গলিতে ঢুকে তিনটা রাস্তা গেছে ৷ একটা খুবই ছোটো৷ ঐ দিকে কেউ যাওয়ার কথা
না৷ হয় ডানে  না হয় সোজা যেয়ে ডানে গেছে৷ চোখ বন্ধ করে এক দিকে
দৌরালাম৷ হঠাৎ দেখতে পেলাম … ঐ তো এটাই সেই ছেলে টা না?

excuse
me.. বলে ছেলেটাকে ডাকলাম৷  ছেলেটা চা এর দোকান থেকে একটা সিগারেট
নিচ্ছিল৷ আমার দিকে তাকাল৷ ছেলেটা আমার দিকে অবাক হয়ে তাকাল ৷ আমি হাতটা
বাড়িয়ে দিলাম৷

-আমি শেষ প্রান্তর

ছেলেটা কিছুটা অবাক হয়ে…

— শান্ত… আপনাকে আমি চিনি?

ছেলেটার চুল প্রায় চোখ ঢেকেছে৷  মাথা থেকে চুল গুলো সরিয়ে … একটা জিজ্ঞাসার দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাল৷

আমি একটু হেসে

– নাহ! আমার অন্তত তা মনে হয় না৷

ছেলেটা একটু হেসে, তখন আমার অবাক হওয়ার পালা৷

– আমি বল্লাম চা খেতে এলাম , একটু হেসে…

— তো শেষ প্রান্তর টা কোথায়?

আমি একটা রহস্যময় হাসি দিয়ে…

– যখন আপনি চাইবেন তখন ই শেষ,

ছেলেটা কি বুঝল কি জানি…  মাথা টা একটু নেরে যেন বুঝেছে… যেখানে আমি নিজেউ বুঝি নাই কি বল্লাম…

— শেষ প্রান্তরে কি পৌছানো যায়? যেখানে দিগন্ত জোড়া মিলে যায়, সাগর আর আকাশ মিলে যায়, সবুজ মাঠ আর নীল আকাশ মিশে যায়?

একটু দার্শনিকের হাসি দিয়ে,

– যায় ,

— কি ভাবে? যতই এগুবে ততই তো শেষ প্রান্তর দূরে চলে যাবে মরিচিকার মত


ঐ যে বল্লাম না , যায়! ফার্মগেট এর ওভার ব্রীজ এ দাড়িয়ে থেক দেখবে কত
একা মনে হবে! আর আকাশের দিকে তাকিয়ে চাদে যাওয়ার কথা ভেব দেখবে ততই দুরে
মনে হবে৷

— তাহলে? কিভাবে? তুমি তো বল্লে যায়…

আমি একটু হেসে… হাটা শুরু করলাম…

দোকানি চাৎকার করে… মামা চা খাবেন না…

– নাহ মামা তুমি খেয়ে নাও… আমি কাল টাকা টা দিয়ে দেব…

— কি ভাবে যা? তুমি বল্লে না তো, তুমি যে বল্লে যায়! যায় না কি? তাহলে বল্লে কেন? বলে যাও…

আমি ছেলেটার দিকে তাকি উল্টো হাটতে হাটতে…

আকাশের দিকে তাকাও… ছেলেটা তাকাল…

– এবার চোখটা বন্ধ করতো দেখি…

এখন রাত ১:৩১

আমি
হাটছি, ছেলেটার সাথে কথা বলে ভালই লাগল৷ জি টিভি এর গলি দিয়ে বেরিয়ে
বাসার দিকে যাচ্ছিলাম কিন্তু কোথায় যেন, অনেক দূরে৷ বাতাসে ভেষে একটা
কান্না শব্দ পাচ্ছি৷ মনটা যেন কেমন করে উঠল৷ একটা ছোট্ট বাচ্চার কান্নার
শব্দ৷ বাইরে ভিষণ বাতাস বইছে৷ বৃষ্টি আসবে৷ বৃষ্টির জল মেশানো আর্দ
বাতাশের সাথে ঐ কান্নাটা যেন আমার যান্ত্রিক হার্ট  এ এক একটা কামান দাগার
মত৷

আমি যোরে যোরে পা চালালাম৷ না! বাসার দিকে না৷ আমি পা
চালালাম কান্নার শব্দটির দিকে৷ আমার বাড়ি টা পার করে ডানে ঘুরলাম কাকরাইল
এর দিকে৷ পুরো রাস্তা ফাকা ১২ অনেক রাত না হলেও ১ টা অনেক রাত৷

এখন বাজে ১:৪৩

কান্নার
আওয়াজ টা বাড়ছে, শব্দের তিব্রতা যতই বাড়ছে যেন মনে হচ্ছে আমার হার্টে
গুলি করার  পরিমান ও বাড়ছে৷ এতক্ষন যেন সাধারন রিভলবার এর পরিবর্তে একটা
এলএমজি চলছে৷  এবার আমি দৌরালাম৷  কারন এন্টি এয়ারক্রাফট চল্লে আর বাচার
কোনো আসা নাই৷

কাকরাইল এর মেইন রাস্তায় এসে পড়লাম, দৌরোচ্ছি, পার
হলাম মেইন রোড ৷ উইল্স এর ফুটপাথ থেকে কান্নার শব্দটা আসছিল৷ শব্দটা যেন
হঠাৎ ই থেমে গেল৷ আমার কি খুশি হওয়ার কথা? কান্না থামলে তো আমার খুশিই
হওয়ার কথা, তাই না? কিন্তু আমি খুশি হলাম না৷ একটু থেমে ভাবলাম এই
অনুভুতি টা কি? কান্না থামার পর ও আমি কেন শুখি হলাম না৷ যেন অখুশি হলাম৷
শিশুটা কাঁদুক এটাই কি আমি চাই? নাহ! কান্না থামাতেই তো এলাম ! তাই না?
নাকি কেন কাঁদছে সেই আগ্রহ মেটাতে এসেছি? নাকি আমি কান্না টা থামাতে
পারিনি বলে আমি হতাশ?

সত্যি মানুষ কত বিচিত্র, ভাল করে বল্লে সত্যি
আমি কত বিচিত্র! আমি কাছে গেলাম৷ একটা মা তর শিশুটাকে ঘুম পারাচ্ছে৷ ফুট
পাথ এ বসে ছিল মহিলাটি, আর ছোট্ট ছেলেটা৷ কাছে যেয়ে বসলাম৷

-কাঁদছিল কেন খালাম্মা

মহিলাটা আমি ফুটপাথ এ বসে গেছি দেখে বিশ্বিত৷ আরো বিশ্বিত দেখে আমি উনার সাথে কথা বলছি দেখে৷

— তা জাইনা আফনের কাম কি? আফনার মতলব টা কি? যান যান.. বড় লোকের ছাও… মাথা ঠীক নাই? এইহানে কি করেন? বাড়িত যান..

– আমি একটু হেসে৷ যাব, কাঁদছিল কেন বাবু টা? আমাকে একটু কোলে নিতে দিবেন?

আমার
দিকে অবাক হয়ে তাকাল মহিলাটা, আমি ভেবেছিলাম হয়তো আমকে ধমক দিবে এমন
কিছু একটা করবে৷ কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে আমার কোলে তুলে দিল
বাবুটাকে৷ কি সুন্দর বাবুটা৷ বয়স ৮ মাস এর ও কম হবে৷ নিশ্চিন্তে
ঘুমোচ্ছে৷

উচু উচু দালানের ভীরে এই একটা বাবা হিন ছোট্ট
ছেলেটা বড় হবে? এক বেলা খাবে আর দু বেলা খাবে না? রাস্তায় বড় হবে এই
ফুটফুটে বাচ্চা টা? ভাবতেই বিষিয়ে উঠল মন৷ মা কে জিজ্ঞেস করলাম না ওর
বাবা কই৷ বরং জিজ্ঞেস করলাম৷

-ঢাকায় কেন? শিকড় ছাড়া কি ঠিক হয়েছে?

— কি করবু বাবা ঐ খানে তো কিছু খাওনের নাই৷ বাধ্য হয়া ঢাহা আইসি,

বাচ্চাটাকে মা এর কোলে ফিরিয়ে দিয়ে বল্লাম

-একটা প্রশ্ন করি?

— কি ফ্রশ্ন বাবা? আমি মূর্খ শুর্খ মানুষ আমারে কি জিগাইবেন?

আমি একটু হেসে

– আপনার ছেলেটাকে বড় হলে কিরকম দেখতে চান?

একটু হাসল মা,

— অন্তত আফনের মতন পাগল না৷ আমার ছেলে শিক্ষিত হবে৷ জজ্ঞানী হবে৷ দেশ আলো করবে… হেহে দেইহেন…

আমি
ভাবলাম মা আপনি মূর্খ হতে পারেন কিন্তু আমাদের বাবা মা এর থেকে অনেক
শিক্ষিত৷ আমাদের বাবা মা চায় ছেলে বড় হয়ে চাকুরি করবে৷ আমি মনে মনে ভাবি
চাকর গিরি করবে৷ পার্থক্য হল বিদেশিদের চাকর গিরি… হাহহাআআআ

আমাদের বাবা মা ভাবে আমরা শিক্ষিত হচ্ছি৷ যতই সার্টিফিকেট পাচ্ছি ততই শিক্ষিত৷ একটা কবিতা খুব মনে পড়ল৷

লাইন গুলো খুব আবছা মনে পড়ছে…

আকাশ আমায় শিক্ষা দিল

উদার হতে ভাই রে,

কর্মী হবার মন্ত্র আমি

বায়ুর কাছে পাই রে।

পাহাড় শিখায় তাহার সমান-

হই যেন ভাই মৌন-মহান,

খোলা মাঠের উপদেশে-

দিল-খোলা হই তাই রে।

সূর্য আমায় মন্ত্রণা দেয়

আপন তেজে জ্বলতে,

…….

এই পৃথিবীর বিরাট খাতায়,

পাঠ্য যেসব পাতায় পাতায়

নাহ কবির নাম টা কিছুতেই মনে পড়ছে না৷ মা এর দিকে তাকি বল্লাম৷ মা ! মা এর চোখে পানি৷

আমার
ভাইটাকে ভিটে মাটিতে নিয়ে যান৷ এই বিশাক্ত নগরীতে আর যাই হোক তাকে
জ্ঞানী আর মহান করতে পারবেন না৷ জ্ঞান? সে তো জীবন থেকে শিক্ষা নিতে হয়
বইয়ের পাতা থেকে না৷  মা আমার দিকে তাকিয়েই থাকল৷ পকেটে কিছু টাকা ছিল৷
বের করে দিলাম মা কে৷ মা আমাকে বল্ল

— বাবা ঠীকই বলচ , এই শহর
বিশাক্ত৷ টাহা লাগব না৷ আমি ভিক্ষুক না৷ অনেক ভিক্ষুক আচে তাদের দেন
গিয়া৷ আমারে না…  ছেলেটাকে নিয়ে মা হাটা শুরু করল৷ আমি বসে বসে ভাবছি
মা কোথায় যাবে?  ভিটে মাটিতে? কিভাবে যাবে? উনি যেতে পারবে? এত পথ কিভাবে
পার করবে? উনার কাছে টাকা পয়সা যে কিছু নেই তা নিশ্চিত! কিভাবে যাবে?
বুকের মধ্যে একটা ব্যাথা অনুভব করলাম৷

হঠাৎ একটু হাসলাম৷  নিজের কথা গুলোই আবার মনে পড়ল

“এই বিশাক্ত নগরীতে আর যাই হোক তাকে জ্ঞানী আর মহান করতে পারবেন না৷ জ্ঞান? সে তো জীবন থেকে শিক্ষা নিতে হয় বইয়ের পাতা থেকে না৷”

অনেক
জোরে হাসলাম এবার৷ ঐ মহিলাটির চোখ দুটো ভেসে আসল আমার চোখের সামনে৷ একটা
কথাই নিজের অজান্তে বল্লাম৷ দৃড়তা! দৃড়তা এর ডেফিনেশন কি এটাই?

জীবন
থেকে শিক্ষা? সেটা কি ঐ মহিলাটি থেকে কেউ বেশি নিয়েছে? ঐ পথ টুকু উনার
কাছে কিছুই না৷ সারা জীবন যে স্ট্রাগল করেছে এতটুকু পথ উনার কাছে খুবই
সামান্য৷ কিন্তু আমার কাছে? আমার কাছে ঐ পথ বিশাল৷ কারন আমি জীবন থেকে
শিক্ষা নেই নি৷  আমি সব কিছু টাকা দিয়ে কিনি৷ জীবন মানে আমার কাছে বই এর
পাতা আর শ্রেণী কক্ষে শিক্ষকের লিখে দেওয়া বুলি… হাহাহাআআ

অনেকক্ষন একা একা হাসলাম৷

উঠে বাসার দিকে রওনা দিলাম৷ পৌছুতে কি পারব বাসায়? নাকি আবার অন্য কোনো দিকে কান্নার শব্দ শুনতে পাব?

রাত ৩.৩২

নাহ! বাসায় যাওয়া হলো না …

কাকরাইল এর মোড় টা পার করতে যেতেই এক দল ছোকরা আমার পথ রোধ করে দাড়াল ৷

একজন
আমার পেছন থেকে হাত দুটো শক্ত করে ধরে ফেল্ল ৷ আমি মনে মনে হাসলাম ৷
সালারা কি আমার কাপড় চোপড় খুলে নিবে নাকি ? কারন কয়েকটা টাকা আর এই
কাপড় চোপড় ছাড়া তো সাথে কিছুই নাই ৷

আমার সামনে তিন জন এসে
দাড়াল, এক জন এর হাতে বিশাল একটা ছুড়ি… ছুড়ি বল্লে ভুল হবে , কোরবানির
সময় এই টাইপ ছুড়ি দিয়ে গরু জবাই করে ৷ আরেক জনের হাতে একটা ডিজাইন
ওয়ালা ছুড়ি ৷ এই ছুড়ি টা পরিচিত ৷ নিউমার্কেট এর ২ নাম্বার গেট এ এই
ছুড়ি গুলো পাওয়া যায়৷ এক একটা ৬০০ টাকার মত চায় ৷

মনে মনে
ভাবলাম ভাবল ইনভেষ্টমেন্ট তো ভালই ৷ রিটার্ন আজকে খারাপ হবে ৷ যার হাতে
কিছু নাই মনে হয় সে নেতা ফেতা টাইপ কিছু একটা হবে ৷ সে বল্ল কোনো গেঞ্জাম
করবি না, করলে …. করলে কি আর বল্ল না ৷

আমি কিছুই করলাম না ৷ আমার
কাছে কিছুই নাই যে নিবে ৷ একজন আমার পকেট এ হাত দিল ২০০ টাকার মত পেল ৷
আর কিছুই না ৷ একজনের চোখ যেন জ্বল জ্বল করছে ৷ নেতে ফেতা টাইপ লোক টা
বল্ল, সালা কিছু নাই , পেছন থেকে একটা গলা বলে উঠল বস ধইরা দেই ? আমি
কিছুই করছি না ৷ একটু হাসছি ৷ নেতা ফেতা টাই টা আমার গেঞ্জির কলার ধরে
আমাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিল ৷ দিয়ে বল্ল যা শালা ভাগ, শালা ফকির এর
বাচ্চা …

আমি দেখলাম এই কথা বলে আমার দুইশ টাকা পকেটে ভরল ৷ আমি
মনে মনে ভাবলাম এভাবে অপমান তো সহ্য করা যায় না ৷ একবার ভাবলাম কিছু করার
প্রয়োজন নাই  শেষে প্রান টাই হারাব ৷  কিন্তু হঠাৎ মাথায় রক্ত উঠে গেল ৷
হঠাৎ মনে হলো কিছুতেই কিছু যায় আসে না ৷ হঠাৎ ই যেন সব ভয় উড়ে গেল ৷
যেন এ্‌ই জীবনের কোনো প্রয়োজন নাই ৷ জীবনে একটাই লক্ষ আজ হয় ওরা মরবে না
হয় আমি ৷

মানুষের মস্তিষ্ক সত্যি অদ্ভুত, মানুষ নিজেকে এত
ভাল মটিভেট করতে পারে না উপলব্ধি করলে বোঝানো খুবই মুশকিল ৷ এই মূহুর্তে
হয়তো একটা জিনিস ছাড়া আপনার জীবন অচল ৷ অথচ পরবর্তি মূহুর্তে সেটার
হয়তো কোনো প্রয়োজন ই নাই ৷

এদের একটু অপমান করি  মনে মনে ভাবলাম,
আবার ভাবলাম আজকে মেরেই ফেলব সবগুলোকে ৷ ওরা কয়েক কদম এগুলো পেছনে ফিরে
একজন আবার আমাকে দেখল ৷  আমি উঠে ওদের পেছনে হাটা শুরু করলাম ৷ একজন কি
যেন ফিস ফাস করে কি বল্ল নেতার কানে কানে ৷ নেতা টাইপ লোকটা আমার দিকে
তাকাল ৷ তাকিয়ে থামল ৷ আমাকে একটা অশ্রব্য ভাষায় গালি দিয়ে আঙ্গুল তুলে
বল্ল ভাগতে বল্ল নাইলে নাকি আমাকে রাস্তায় কেটে কয়েক টুকরা করে ফেলে
যাবে ৷ আমি কথাটা শুনে মনে মনে হাসলাম ৷ এগুতে থাকলাম আমি ৷ চার জন ই এখন
বিভ্রান্ত ৷ কি করবে বুঝতে পারছেনা যেন ৷

কত শক্তিশালি ওরা ,
হাতে অস্ত্র আছে, আমি ভাবলাম তবুও আমাকে ভয় পাচ্ছে ? এতক্ষনে আমার দিকে
ছুড়ি বাগিয়ে তেড়ে আসার কথা না ? কেন আসছে না ? আমি কিসের নেশায় এগিয়ে
যাচ্ছি ? আমার মাথায় রক্তের নেশা ছলাক দিয়ে উঠল ৷ আমি পরিষ্কার দেখতে
পারছি আজ মৃত্যু নিশ্চিত ৷

চার জনের সাথে একজন মানুষের পেরে উঠার
কোনো কারন নাই ৷ তার মাঝে আমি এমন কোনো ব্যক্তি না যে তাদের কুপকাত করে
বীর দর্পে দাড়িয়ে থাকব ৷ আমি অতি সাধারন মানুষ ৷ ৪ জন কেন ২ জন এর সাথেই
পারার কথা না ৷ আবার যেখানে ওদের মোটা মোটি সবার কাছেই ছুড়ি চাকু আছে ৷

আমি
অতকিছু ভাবলাম না আসলে, এগুতে থাকলাম , মনে একটা কথাই বার বার ভাসতে লাগল
রক্ত, রক্তের নেশা আজ আমাকে পেয়ে বসেছে ৷ হঠাৎ মনে হল সব কিছু যেন লাল
লাল মনে হচ্ছে ৷

হঠাৎ একটা শব্দ শুনরাম, শব্দটা পরিষ্কার ভাবে এল না
আমার কানে ৷ কিন্তু পরক্ষনে দেখলাম চার জোড়া , নাহ পাচ জোড়া পা দৌরোনো
শুরু করেছে ৷ পালাচ্ছে  ওরা ধরতে হবে ৷ হঠাৎ বুঝলাম আর তাড়া করে লাভ নাই ৷
চার জন চার দিকে দৌরে পালিয়েছে ৷ মনে মনে হাসলাম ৷ যেন নিজেকে নতুন করে
আবিষ্কার করলাম ৷ হাহাহাআআআআআ

হাসতে হাসতে রাস্তায় বসে পড়লাম ৷ কি
অদ্ভুত মানুষের চিন্তা ভাবনা ৷ ঐ চার জন এর হাত থেকে নিশ্চিত ধোলাই
খাওয়া থেকে ধোলাই বল্লে ভুল হবে ৷ নিশ্চিত ছিন্ন ভিন্ন করে  কয়েক টুকরা
হয়ে যাওয়ার কথা যেখানে সেখানে আজ ওরাই পালিয়েছে ৷ আচ্ছা ওরা পালিয়ে
গেল কেন ?  আমার মত একটা মানুষকে দেখে পালানোর কি কিছু আছে ? ইচ্ছা করলেই
মেরে কয়েক টুকরো করে ফেলতে পারতো না আমাকে ? কিন্তু কেন পালাল ?

যেন
পরক্ষনেই একটা দৈব শব্দ শুনতে পেলাম, আসলে শব্দ টব্দ কিছু না ৷ আমার
মস্তিষ্কের ই কারসাজি , শুনতে পেলাম  আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্য
সুন্দর… আর সত্যের চেয়ে ভয়ঙ্কর কিছু কি আছে ?

রাস্তায় এবার
শুয়ে পড়লাম ৷ খুবই ক্লান্ত লাগছে ৷ এভাবে দৌরা দৌরি আসলে আমার সাঝে না ৷
হার্টে এ সমস্যা ৷ হাতে মাত্র কদিন সময় জীবনটা কি তাই জানা হল না ৷
কিন্তু সময় ফুরিয়ে গেছে ৷ কি ভাবে যে ফুরিয়ে গেল বুঝতেই পারি নাই ৷
হঠাৎ লক্ষ করলাম আমার টি শার্ট টি ভিজা লাগছে , নিচের দিকে তাকিয়ে দেখি
আমার সাদা টি শার্ট টা কেমন যেন হলুদ লাগছে , হলুদ ও না আবার কাল ও না…
সোডিয়াম এর লাইট এ ওটা রক্তা না ঘামে ভিজে গেছি বুঝলাম না , কিন্তু যখন
মাথাটা ঝিম ঝিম শুরু করল, চোখে সাদা সাদা দেখতে শুরু করলাম তখন বুঝলাম…
ওটা সম্ভবত রক্তই হবে… নাক দিয়ে অঝোরে রক্ত পড়ছে… আমি একটু
হাসলাম… আস্তে আস্তে  পুরো পৃথিবী আলোকিত হয়ে উঠছে যেন …. আচ্ছা
অন্ধকার হয়ে যাওয়ার কথা না ? তার পর জ্ঞান হারানোর কথা না ? নাকি মারা
যাওয়ার কথা ?

একটু হাসলাম… ওরা কেন দৌরে পালিয়েছে এবার বুঝলাম… হাহাহাহাআআ রক্ত, সবাই ভয় পায় রক্ত ? নাহ বোধয়…

এবার হঠাৎ সব অন্ধকার….