নিদ্রিত শোভা – মাহবুব জামান আশরাফী

নিদ্রিত শোভা -মাহবুব জামান আশরাফী

এক

২৯ জুন ১৭৮৮,
বার্মিংহাম। ইংল্যান্ড।

সকাল থেকেই বার্মিংহাম শহরে হৈচৈ পরেছে, চার্চের ঘন্টা বাজছে বিরামহীন। প্রায় তিন বছরের অক্লান্ত চেষ্টার পর আজ ভোররাতে বার্মিংহাম শহরের মানুষের দুশ্চিন্তা এর অবসান হয়েছে। শহর জুড়ে ত্রাস চলানো এক ডাইনী ধরা সম্ভব হয়েছে। অবস্থা এমন দাড়িয়েছিল যে খোদ চীনদেশ থেকে তান্ত্রিক আনতে হয়েছে ডাইনি নিধন করতে।  
গত তিন বছরে শহরের অগনিত গবাদী পশু মারা পড়েছে। হাজার রকম নিরাপত্তা্র ব্যবস্থা করেও লাভ হয়নি। ফার্ম হাউজগুলোর কাছাকাছিই পাওয়া যেত মৃত পশু গুলোর দেহ।  সরাসরি কোনো মানুষের ক্ষতির কথা অবশ্য শোনা যায়নি, তবে গভীর জঙ্গল থেকে মাঝরাতে ডাইনিটার চিৎকার শুনেছে অনেক মানুষ। সেই চিৎকারে নিশ্চুপ হয়ে যেত বনের ঝিঁঝিঁ পোকারাও। মাঝে মাঝেই লোকালয়ে দেখা যেত ডাইনীটাকে। অপূর্ব সুন্দর মুখশ্রী, কিন্তু কোথায় যেন ভয়ংকর একটা কিছু লুকিয়ে আছে। নির্জীব প্রাণহীন চোখে তাকিয়ে থাকত ডাইনী টি এতেই আত্মা শুকিয়ে যেত পথচারীদের। পারতপক্ষে সন্ধ্যার পর শহরের লোকজন ঘর থেকে বের-ই হতো না বলা যায়।
সেই ভীতিকর ডাইনীকে দেখতেই আজ গোটা শহর ভেঙ্গে লোক এসেছে, তাদের সবার চোখে মুখে স্বস্তির গাঢ় রেখা। ডাইনীটাকে দেখাচ্ছে বিধ্বস্ত, চুলগুলো চলে এসেছে মুখের উপরে, হাতদুটো পেছনে বাঁধা, ঠোঁটের কোণা কেটে গিয়ে কালচে রক্ত জমাট বেধে আছে ।

দুপুর ঠিক বারোটা এক মিনিটে টাউন হলের সামনে পুড়িয়ে মারা হলো তাকে।

Continue reading

রাজা

আমি বিশ্ব রোড এর ফ্লাই ওভার ধরে হাঁটছি ৷ আজকে কোনও কারণে traffic jam নাই ৷ ঢাকা শহর, মাঝে মধ্যে আমাদের সাথে রসিকতা করে ৷ আজকে মনে হয় এমন একটা দিন ৷ আমি যে পথ ধরে হাঁটছি এ পথ ধরে মানুষ তেমন হাটে না ৷ বিশ্ব রোড বলে কথা ৷ মানুষ সাই সাই করে গাড়ি ছুটিয়ে যাচ্ছে আর অবাক করে আমার দিকে তাকাচ্ছে ৷ আমি যদিও বুঝলাম না তার কারন কি৷আমার বিপরীত দিক থেকে একজন লোক আসছে ৷ তার পড়নে সাদা পাঞ্জাবী পায়জামা তার উপর উনি বেশ দামী একটা সোয়েটার পড়েছেন ৷ দেখতে খুব জ্ঞানী লাগে ৷ মাথায় কাঁচা পাকা চু ল ৷ মোচ গুলোও কাঁচা পাকা ৷ কাল ফ্রেম এর চশমা পড়েছেন৷ তিনি আমার কাছে আসতে আমি উনাকে জিজ্ঞেস করলাম
– uncle
– – জী আমাকে বলছেন ?

Continue reading

বন্ধু

আমি আর আমার বন্ধু রিফাত মিলে আমরা নিকু ঞ্জ এর একটা বাসায় থাকি ৷ বাড়ির নাম শহর আলী ৷ মালিক ভদ্রলোক মারা গেছেন ৷ আমরা ৫ তলায় থাকি ৷ আমি সারাদিন আমার ল্যাপটপ নিয়ে বসে থাকি ৷ কোনও কাজ নাই ৷ বেকার মানুষ, বেকার হিসাবে যাতে পরিচয় না দিতে হয় সেই জন্যে আমি MBA করছি৷ আমার বন্ধু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ MBA করছে ৷ তবে সে বেকার না৷ গতবারের BCS এর প্রিলিমিনারিতে টিকেছিল ৷ Written এ বাদ পড়ে যায় ৷ এবার আবার দিচ্ছে ৷ সে মহা ব্যস্ত ৷ এর মাঝে বেশ কয়েকবার বিভিন্ন ব্যাংক এ Viva এর ডাক পেয়েছে ৷ আর আমি ভার্সিটি আসি যাই, দিন কাটাই আমাকে কেউ ভাইভা তে ডাকে না ৷ কয়েকদিন আগে একটা ব্যাংক এ written দিয়েছিলাম, হয় নাই ৷ এখন সকাল ৮ টা আমি এত ভোরে কেন উঠে গেলাম বুঝতে পারছি না ৷ আমার বন্ধু র কোনও সাড়া শব্দ পাচ্ছি না ৷ ও মনে হয় উঠে নাই ৷ আমার এক কাপ কড়া কফি খেলে ভাল হতো ৷ কিন্তু কফি খেতে হলে নিজের বানিয়ে খাওয়া লাগবে ৷ আমার অবশ্য নিজের বানিয়ে খাওয়ার তেমন কোনও ইচ্ছে নাই ৷ রিফাত খেলে ওকে বললে ও বানিয়ে দেয়৷ যেহেতু ওর কোনও সাড়া শব্দ নাই তাই আপাতত কফি খাওয়ার কোনও সম্ভাবনা দেখছি না ৷ আমি আবার শুয়ে পড়লাম ৷ আরেকটু ঘুমানো যাক ৷ প্রায় তিন ঘণ্টা পড় যখন আমার আবার ঘুম ভাঙ্গল তখন ১১ টার বেশি বাজে ৷ যদিও ১১ টা কে সকাল ধরা হয় আমার এতে যথেষ্ট আপত্তি আছে ৷ আরে ১১ টা তো ভোর ৷ এত ভোরে উঠে আমি সারাদিন কি করব বুঝতে পারছি না ৷ উঠে বসে কান পেতে কোনও সাড়া শব্দ আছে কিনা বোঝার চেষ্টা করে আমি হতাশ হলাম ৷ আজ বোধয় কপালে কফি নাই ৷

Continue reading

জনসন রোড, পুরান ঢাকা

Related image

জনসন রোড, পুরান ঢাকা-  মাহবুব জামান আশরাফী                                     

কিছু কথা 

২০১৩ সালে BBA শেষ করার পর হঠাৎ করে LLB তে ভর্তি হলাম৷ সবাই আমার উপর ক্ষেপা৷ সবাই ধরেই নিল আমার মাথায় সমস্যা দেখা দিয়েছে৷ আমাকে দিয়ে জীবনে আর কিছু হবে না৷ অনেকে অনেক রকম কথা বল্ল অনেক রকম আন্দাজ করল৷ কেউ ভাবল আমি  BBA তে খুব খারাপ রেজাল্ট করেছি সুতরাং আমাকে দিয়ে ঐ লাইনে কিছু হবে না তাই আমি আইন বিদ্যা রপ্ত করতে শুরু করেছি৷ যেহেতু আমার পরিবার এবং আত্মিয় স্বজনদের মাঝে ডজন খানেক (আরো বেশী হবে মনে হয়, কিন্তু ডজন খানেক বল্লে ভাল শোনায় তাই ডজন খানেক ই থাক) আইন পেশায় নিয়জিত৷ সবাই ভাবল আমি সেই সুযোগ নিচ্ছি৷  আবার কেউ ভাবল আমি স্রেফ পাগল হয়ে গেছি৷ কেউ ভাবল BBA আর Law ভাল combination সমস্যা কি ?

একদিন রাতে একটা গল্প লিখতে বসি (একটু লেখা লেখির বদ অভ্যাস আছে কিনা!)৷ লিখতে যেয়ে আবিষ্কার করলাম যে গল্পটা লিখতে চাচ্ছি তা সম্পর্কে আমার জ্ঞান নাই৷ মানে আমি আইন নিয়ে তেমন কিছু জানি না৷ ঐ গল্প টা লেখা আর হল না৷ তো কি আর করা, জ্ঞান না থাকলে জ্ঞান আহরণ করা লাগে,  জ্ঞান আহরণ করার জন্যে আইন বিদ্যা টা রপ্ত করলাম৷ সেই গল্পটা ও লেখা শেষ হল৷ Scroll করে নিচে নামলেই  সেই গল্পটা পাবেন৷ এই গল্পের চরিত্র রিফাত আজিম ভাইকে না জিজ্ঞেস করেই তার নাম টা ব্যবহার করলাম৷ আশা করি সামনে দেখা হলে মাইর টাইর খাব না৷

PDF : http://bit.ly/2hTH3A9

ePub: http://bit.ly/2ie58y9

Read Online: http://bit.ly/2h8KHES

 

হাসি মঞ্জিল

জনসন রোড এর ঘিঞ্জি একটা বাড়ি । হাসি মঞ্জিল৷  পুরান ঢাকার জজ কোর্ট থেকে একটু এগিয়ে হলুদ রং এর একটা ৩ তলা বাড়ি । দেখে মনে হবে রাস্তা থেকে অনেক ভেতরে। কিন্তু ছোট সরু গলিটা দিয়ে ঢুকলে দেখা যাবে সেই গলির ভেতর যেন অন্য এক দুনিয়া৷ টিন-শেড এর কিছু দোকান, টুকটাক করে রাজ্যের ব্যাস্ততায় কাজ চলছে পুরান যুগের সেই টাইপ রাইটার গুলোতে। কত হাসি কান্না, রাগ অভিমান, শোধ প্রতিশোধ এর সাক্ষী এই টাইপ রাইটার গুলো৷ খারাপ-ভাল মানুষের হয়ে কত জাজের কাছে আবেদন করেছে এই টাইপ রাইটার গুলো । এই টাইপ রাইটার এর বোতাম এর চাপে কত ভাল মানুষের ঝুলে গেছে, আর কত কুখ্যাত খুনি ছাড়া পেয়ে গেছে৷ আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে  বেরিয়ে যাওয়া আর ঝুলে যাওয়ার জন্য কেউ এই টাইপ রাইটার গুলোকে দোষ দেয় না। দোষ দেয় না টাইপিস্ট দের ও। এরা হচ্ছে পুতুল। উকিল রা এদের যেভাবে নাচায় এরা সেভাবেই নাচে৷

Continue reading

বিদায়

শেষ কবে ভাত খেয়ে ছিলাম মনে নেই ৷ আজ খুব ভাত খেতে ইচ্ছে হচ্ছে ৷ যেহেতু আজকে শনিবার সুতরাং আজকে কাজে যেতে হবে না ৷ এখানে শনি আর রবিবার ছুটি থাকে ৷ আমি মাঝে মধ্যে শনিবারে ও কাজ করি ৷ তবে এই সপ্তাহে নাই ৷ গত ২ সপ্তাহ প্রচন্ড খাটা খাটুনি গিয়েছে ৷ এই পরদেশে এসে ২ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম এর পর গত বুধবার মাস্টার্স এর শেষ পরীক্ষা টা দিয়েই দিলাম ৷ ভালয় ভালয় পাশ করে গেলে বেচে গেলাম ৷

শরীর হাত পা প্রচন্ড ব্যথা করছে ৷ বিছানা থেকে উঠতে ইচ্ছে হচ্ছে না ৷ কয়টা বাজে তা  দেখার মত ইচ্ছে হচ্ছে না ৷ ইচ্ছে হচ্ছে শুধু এক প্লেট ভাত খেতে ৷ গরম গরম ভাত, আলু ভর্তা, ডিম ভাজি সাথে একটু সরিষার তেল বা ঘি ৷ বাবা অত কিছু না হলেও হবে এক প্লেট ভাত হলেও হবে ৷ মনটা ভীষণ খারাপ হলে গেল ৷

মনে হচ্ছে চিৎকার করি ৷ এই দেশে সব আছে ৷ আপনি বাসায় বসে ফোন দিলে যা চাবেন খাবার দিয়ে যাবে ৷ পিটজা, ফাস্ট ফুড ইস যদি এক প্লেট ভাত দিয়ে যেত কেউ ?

ঘরে চাল নাই ৷ চাল কেনা হয় না ৷ রান্না করবে কে ৷ সকাল ৬ টায় বের হই , ৮ টা নাগাদ ক্লাস ধরি ১১ টায় শেষ হয় ৷ সেন্ট্রাল থেকে দৌরে মেট্রো তে উঠে প্রায় ২৫ মিনিট এর ট্রেস জার্নি করে একটা Job ধরি ৷ job টা মাত্র ২ ঘণ্টার ৷ একটা রেস্টুরেন্ট এ ৷ এই জবটা করার এক মাত্র কাড়ন খেতে দেয় ৷

Continue reading

মেমরি লেন

শীতের কনকনে সকাল ৷ কটা বাজে তখন? খেয়াল নেই ৷ সমুদ্রের কাছে গেলে অমনই হয় ওর ৷ সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলে ৷ আর কেনই বা এমন হবে না ৷ সমুদ্রের বিশালতা সামনে গেলে ও, সব ভুলে যায় ৷ না না ভুলে যায় বললে ভুল হবে ৷ বরং বলতে হবে বর্তমান ভুলে যায় ৷ মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা স্মৃতির অলি-গলি ধরে হাটতে শুরু করে ৷ কত শত চিন্তা ভাবনা কত সুখ কত হাসি কত কান্নার স্মৃতি যে জড়ো হয় তার কোনও সীমানা নাই ৷ ঠিক যেমন সমুদ্রের ও কোনও সীমানা নাই ৷

হঠাৎ মোবাইলটা বেজে উঠল ৷ ওটা ধরার ইচ্ছে নেই ৷ কিন্তু এই যন্ত্র টি নাছোড়বান্দা ৷ ভুল বললাম ৷ যন্ত্রের আর কি দোষ ৷ এর অপর প্রান্তের মানুষ গুলোই এমন ৷ ফোন আসতেই থাকল ৷ কিন্তু ওর মাঝে কোনও ব্যস্ততা নেই ৷ যেন ভাব-লেশ হীন একটা মানুষ দু হাটুকে হাত দিয়ে পেঁচিয়ে বসে আছে সেই ভোর থেকে ৷ গত কিছু দিনের ঘটনা গুলো মনে খুব দোলা দিচ্ছে ৷ সেই জন্যেই এই ব্যবস্থা ৷ বর্তমানকে ভুলে অনেক পুরনো দিনে ফিরে গেছে  ও ৷ কখনো নো  যদি বর্তমানকে ভুলতে ইচ্ছে হয় তার চেয়ে ভাল পদ্ধতি হয়তো নেই ৷ নিজের মাঝে হারিয়ে যাওয়ায় মনে হয় সব চেয়ে আনন্দের ৷ কখন মনের স্মৃতির অলিগলি ধরে কোন পথে যেয়ে কোথায় থামবেন , হাসবেন কি কাঁদবেন কখনো বলতে পারবেন না ৷ যেন একটি থ্রিলার মুভি ৷ আপনি জানেন এদের মধ্যেই কেউ কিন্তু জানেন না কে সে ৷

ফোনটা বাজতে বাজতে বন্ধ হয়ে গেল ৷

Continue reading

ভোরের আধার, রাতের আলো

রাতের শেষে ভোর হয় এটাই স্বাভাবিক ৷ কিন্তু কোনটা বেশি সুন্দর রাত ? নাকি ভোর ? আস্তে আস্তে সূর্যের আভা ঢাকার রাজ পথে পড়ছে ৷ আলোয় নাকি অনেক কিছু ধরা পড়ে ৷ আলো নাকি অন্যায় অবিচার সব ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে দেয় ৷ এখন তাহলে অমন একটা সময় ই হবে ৷ কাড়ন রাতের যত কুৎসিত, যত গ্লানি  আলোয় আলোকিত হয়ে যাবে ৷

রমনা পার্কের সাইট ধরে একটা ফুট পাথ এ বসে আছি ৷  মাথাটা প্রচুর ধরেছে ৷ কোনও একটা মেডিসিন খেয়ে সোজা বিছানায় যাওয়া উচিত ৷ কিন্তু কি এক নেশায় পেয়ে বসেছে ৷ উঠতে ইচ্ছে হচ্ছে না ৷ প্রচন্ড শীত ৷ কুয়াশা বৃষ্টির মত  পড়ছে ৷ কেউ আমার শার্ট ধরলে হয়তো বলবে ঘেমে ভিজে গেছে ৷ শীতে হুডি ছাড়া টিশার্ট  পড়ি না কিন্তু হায় আজ তা ও পড়ি নাই ৷ প্রচন্ড শীতে নির্ঘাত নিউমোনিয়া হবে মনে মনে হচ্ছে ৷ দূরে একটা ল্যাম্প পোষ্ট জ্বলছে ৷ তার নিচে দুটো ছোটো বাচ্চা একটা পাতলা বস্তা গায়ে দিয়ে শুয়ে আছে ৷ একজনের পুরো শরীর ঢাকলে  আরেক জনের শরীর বের হয়ে যাচ্ছে ৷ কখনো হয়তো পা কখনো হয়তো হাত ৷ কিছুক্ষণ পর পর এ পুরো শরীর ঢাকছে তো ওর পাশে টানা পোড়ন হয়ে যাচ্ছে ৷ কিছুক্ষণ পড়ই সূর্য উঠবে ৷ আমার ধরণীর বুকে প্রাণ ফিরে আসবে  এই দুটো বাচ্চা ছেলে হয়তো আরেকটি রাত কোনও মতে কাটিয়ে দেওয়ার সময় গুনছে ৷

 

আমি ফুটপাথ এর যে পাশে বসে আছি তার অপর পাশে এক বৃদ্ধ সারা রাত ধরে কাতরাচ্ছে ৷

Continue reading

চিংড়ির সন্ধানে

শীতের রাতে, কাঁপতে কাঁপতে বাসা থেকে বের হলাম ৷ আজকে হঠাৎ করেই শীত পরে গেল ৷ এত শীত পরবে কোনও আইডিয়া ই দেয় নাই ৷ সাধারণত ভীষণ শীত পরার আগে ছোটখাটো একটা বৃষ্টি হয় ৷ কিন্তু এবার ত, তা হল না ৷ আমার গায়ে একটা জিনস, টি শার্ট আর একটা শার্ট উপড়ে পরা ৷ শীত মানছে না ৷ এখন রাত প্রায় ১ টা ছুঁই ছুঁই করে ৷ বাবা মা আমার বোন ঢাকার বাইরে গেছে ৷ ৷ এই রাত ১ টায় খুদা পেয়েছে ৷ খুব ইলিশ চিংড়ি মাছ খেতে ইচ্ছে হচ্ছে ৷ তাই আমি চিংড়ি মাছের সন্ধানে বের হয়েছি ৷

12694728_10153866170940050_2729914294236216092_o

আমার বাসা থেকে বের হবে আমি কোন দিকে যাব বুঝতে পরছি না , বাম দিকে গেলে বেশ কয়েকটা হোটেল আছে ৷ আমি সে দিকেই হাটা দিলাম ৷ কিছুক্ষণ হাটার পর বুঝতে পারলাম হাঁটলে শীত কমে, শরীর গরম হয় কথাটা একদম ভুয়া ৷ মানুষ এই ভুয়া কথাটা কেন দিব্বি চালিয়ে দেয় বোঝা গেল না ৷ তবে ব্যাপার টা অন্য রকম হতে ও পারে ৷ হয়তো আমি কোনও শীতের কাপড় পড়ি নাই , তাই হতে পারে ৷ আমি হন হনিয়ে হাটছি , প্রচন্ড খুদা পেটে, আমার খুদা লাগলে শরীর কাঁপতে থাকে ৷ কেন এমন হয় জানি না ৷ এই সমস্যাটা নতুন হয়েছে ৷ হাটছিলাম, এক বৃদ্ধ রিকশা চালায়, আমাকে বলল, কই যাবেন ? তার গলায় রীতিমত হুমকি! যেন তার রিকশায় না উঠে আমি মহা অন্যায় করেছি , তার ন্যায্য পাওনা ওটা ৷ আমি বললাম, চিংড়ি খেতে যাই ৷

Continue reading

ঠান্ডা

প্রচণ্ড শীতে থর থর করে কাঁপছি ৷ এখন গ্রীষ্ম কাল, অন্তত পক্ষে ঘুমাতে যাওয়ার আগে তাই ছিল ৷ ঘুম ভাঙ্গার পর প্রচণ্ড শীত অনুভব করছি ৷ ঘুম ভাঙ্গার পর বললে হয়তো ভুল হবে ৷ প্রচণ্ড শীত লাগার কারণে আসলে ঘুম ভেঙ্গে গেছে ৷

হাত পা নারাতে পারছি না ৷ আমার হাত পা বাঁধা ? বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টা চালালাম ৷ নাহ হাত পা নির্ঘাত বাঁধা ৷ একটা যান্ত্রিক গুঞ্জন শুনতে পারছি ৷ কিছুক্ষণ পর দুলুনি অনুভব করলাম ৷ আরও কিছুক্ষণ পর যান বাহনের শব্দ ৷ যেহেতু আমি কিছু দেখতে পাচ্ছি না তাই সব কিছু অনুমান করতে হচ্ছে ৷ আমার চোখ বাঁধা ৷

হাত পা বেঁধে রেখেছে সমস্যা নাই ৷ কিডন্যাপ করছে তাতে ও সমস্যা নাই ৷ কিন্তু গরম কাল বলে এমন হিম শীতল ঘরে রেখে খাতির যত্ন না করলে ও হত ৷

ঘণ্টা খানেক খুব কষ্টে এভাবেই পার করলাম ৷ জানি চিৎকার চেঁচামেচি করে লাভ নেই ৷ তাই করছি না ৷ চাইলে ও পারব কিনা বুঝতে পারছি না ৷ গলা দিয়ে শব্দ বের হওয়ার কথা না ৷ শরীরের সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গ জমে গেছে ৷ শ্বাস নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে ৷ এক এক বার শ্বাস নিলে মনে হচ্ছে মাথায়, বুকে কাটা ধুকছে ৷

Continue reading