আমরা ভাবি, আমাদের অফিসের সবকিছু আমাদেরই নিয়ন্ত্রণে। আসলে অনেক কিছুর চাবি থাকে সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারে, অন্য কারো পকেটে। একটা ব্যাংক কতখানি এমন সফটওয়্যারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে যা বাইরে থেকে এক নিমেষে বন্ধ করে দেওয়া যায়, আর সেই চাবি কীভাবে নিজের হাতে ফিরিয়ে আনা যায়, তা নিয়েই এই লেখা।

একটা ছোট গল্প দিয়ে শুরু করি।

২০২৫ সালের শুরুর দিকের কথা। হেগ শহরে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি করিম খান একদিন সকালে অফিসে এসে দেখলেন, নিজের ইমেইলটাই তিনি খুলতে পারছেন না। পাসওয়ার্ড ভুল হয়নি, ইন্টারনেটও নষ্ট হয়নি। ব্যাপারটা আরও অদ্ভুত। যুক্তরাষ্ট্র তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, আর সেই নিষেধাজ্ঞার এক খোঁচায় তাঁর Microsoft অ্যাকাউন্টটা চুপচাপ বন্ধ হয়ে গেল। একবার ভাবুন। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আদালতের প্রধান আইনজীবী একজন মানুষ, অথচ নিজের অফিসের চিঠির বাক্সটাই তাঁর হাতে নেই। বাক্সের চাবি অন্য একটা দেশের হাতে।

আপনি হয়তো ভাবছেন, এ তো সাহেবদের ঝামেলা, দূর দেশের আদালতের কথা, আমার অফিসের সঙ্গে এর কী সম্পর্ক। সম্পর্ক আছে। আর সেটা কতটা গভীর, তা ভাবলে একটু থমকে যেতে হয়।

একটা ব্যাংকের কথাই ধরুন। সকালে অফিসে এসে আমরা ইমেইল খুলি, মিটিং করি, রিপোর্ট বানাই, হিসাব মেলাই, বেতন তৈরি করি, কর্মীর নথি রাখি, গ্রাহকের সেবা দিই। এর প্রায় সবটাই চলে গুটিকয় বিদেশি কোম্পানির সফটওয়্যারে। আমরা ভাবি, এগুলো আমাদের ব্যাংকের জিনিস, আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। কিন্তু করিম খানের মতো একটা দিন এলে টের পাওয়া যায়, শেষ কথা বলার চাবিটা আসলে আমাদের হাতে ছিল না কোনোদিনই।

ঘরের চাবি অন্যের পকেটে

আমি কঠিন শব্দ পছন্দ করি না, তাই সহজ করেই বলি। মূল কথাটা দুটো। এক, আমাদের তথ্য কার আইনের অধীনে থাকবে। দুই, আমরা যে সফটওয়্যারের ওপর ভর দিয়ে অফিস চালাই, তার ওপর আমাদের নিজেদের দখল আসলে কতটুকু।

দ্বিতীয় কথাটা একটা ছবি দিয়ে বোঝাই। ধরুন, কেউ অনেক টাকা ঢেলে একটা সুন্দর দালান তুলল। রং করল, আসবাব সাজাল, সব গুছিয়ে নিল। কিন্তু জমিটা তার নয়, ভাড়ার। একদিন সকালে জমির মালিক এসে বলল, কালকের মধ্যে উঠে যাও। তখন ওই সাধের দালান দিয়ে কী হবে? সফটওয়্যারের ব্যাপারটাও ঠিক তাই। একটা ব্যাংক বছরের পর বছর তার গোটা কাজ, গোটা তথ্যভান্ডার, গোটা কর্মজীবন এমন এক সফটওয়্যারের ওপর গড়ে তোলে, যার জমিটা আসলে অন্যের।

এখানে একটা সূক্ষ্ম ফাঁকি আছে, যেটা বেশির ভাগ মানুষ ধরতে পারেন না। আমরা ভাবি, তথ্যটা যদি দেশের ভেতরে রাখি, তাহলেই তো নিরাপদ। ব্যাপারটা অত সহজ নয়। সফটওয়্যারের মালিক কোম্পানিটা যদি বিদেশি হয়, তাহলে তথ্য আপনি ঢাকায় রাখুন আর সিঙ্গাপুরে রাখুন, আইন খাটবে সেই কোম্পানির দেশের। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র একটা আইন করেছে, নাম CLOUD Act। সেই আইনে একটা মার্কিন কোম্পানিকে বলা যায়, তোমার কাছে যা তথ্য আছে সব তুলে দাও কিংবা বন্ধ করে দাও, সে তথ্য পৃথিবীর যেখানেই থাকুক। মানে, চাবিটা সার্ভারের সঙ্গে থাকে না, চাবিটা থাকে মালিকের পকেটে। সার্ভার বাড়ির পাশে রাখলেও, মালিক যদি দূরের মানুষ হয়, তাতে কোনো লাভ নেই।

আমরা ভাবি, ব্যাংকের তথ্য আমাদের, গ্রাহকের তথ্য আমাদের, কর্মীর তথ্য আমাদের। অথচ এসবের ওপর শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাটাই আমাদের নয়।

একটা থমকে যাওয়া সকাল

একটা দৃশ্য কল্পনা করুন। একটা ব্যাংক, মাসের শেষ দিন। আজ বেতন হওয়ার কথা। হিসাব বিভাগ সকাল থেকে বসে আছে, কিন্তু বেতনের ফাইল খুলছে না। কারণ যে বিদেশি সফটওয়্যারে বেতনের হিসাব হয়, দূরের কোনো এক সিদ্ধান্তে সেটা আজ বন্ধ। পাশের টেবিলে এইচআরের মানুষটা নতুন কর্মীর নিয়োগপত্র বানাতে বসেছেন, Word খুলছে না, খুললেও লেখা যাচ্ছে না, ফাইলটা কেবল-পড়া হয়ে পড়ে আছে। আরেকজন ছুটির আবেদন জমা দিতে চাইছেন, যে সিস্টেমে আবেদন যায় সেটাও চুপ। শাখায় শাখায় কর্মীরা নিজের কম্পিউটারেই ঢুকতে পারছেন না, কারণ কে ঢুকবে আর কে ঢুকবে না, সেই সিদ্ধান্তের চাবিও আছে বিদেশে। কাউন্টারে গ্রাহক দাঁড়িয়ে আছেন, সেবা থেমে আছে।

গোটা একটা ব্যাংক এক সকালে থমকে গেল। কোনো বন্যা হয়নি, কোনো আগুন লাগেনি, কোনো চোর কিংবা হ্যাকার ঢোকেনি। কেউ কেবল বহু দূরে বসে একটা সুইচ বন্ধ করে দিয়েছে।

আমরা বছরের পর বছর ভয় পেয়ে এসেছি চোরের, হ্যাকারের, যে দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকবে। কিন্তু যাকে আমরা বিশ্বাস করে ঘরের চাবি দিয়ে রেখেছি, সে যদি একদিন নিজেই দরজা বন্ধ করে দেয়, তখন কী হবে? এই ভয়টা আমরা পাইনি। করিম খানের ঘটনার পর আর না পেয়ে উপায় নেই। একটা আন্তর্জাতিক আদালতের সঙ্গে যা ঘটতে পারে, একটা ব্যাংকের সঙ্গে তা ঘটবে না, এমন নিশ্চয়তা কে দেবে।

একটা পোশাকের দোকানের ইমেইল বন্ধ হলে তার একটা সপ্তাহ খারাপ যায়, এই পর্যন্তই। কিন্তু একটা ব্যাংক যদি থমকে যায়, মানুষের আস্থায় যে ফাটল ধরে, সেটা কোনো বিজ্ঞাপন দিয়ে জোড়া লাগে না। কারণ ব্যাংক কেবল নিজের জন্য চলে না। মানুষের জমানো টাকা, বেতন, পেনশন, ব্যবসার লেনদেন, গোটা দেশের অর্থনীতির চাকা, সবকিছু এই ব্যবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে। তাই সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যাংকের দায়টাই সবচেয়ে ভারী। আমরা কেবল ব্যবহারকারী নই, আমরা জিম্মাদার।

ভালো কথা, আমাদের নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ ব্যাংক এই বিপদটা আগেই আঁচ করেছে। তাদের নির্দেশনা স্পষ্টভাবেই বলছে, স্পর্শকাতর তথ্য যতটা সম্ভব দেশের ভেতরে, নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখো। আইনও আছে, যা বলে ব্যাংকের নথি বিনা অনুমতিতে দেশের বাইরে নেওয়া যাবে না। পথটা তাই অচেনা নয়। শুধু সেই পথে হাঁটার সাহসটুকু দরকার।

ভালো খবর হলো, পথ খোলা আছে

এবার আসল ভালো খবরটা বলি, যেটার জন্যই এত কথা। আমরা অফিসে যা যা ব্যবহার করি, তার প্রায় প্রতিটারই একটা করে স্বাধীন, খোলা বিকল্প আছে। এদের বলে ওপেন-সোর্স সফটওয়্যার। মানে, এর ভেতরটা সবার জন্য খোলা। যে কেউ দেখতে পারে, চালাতে পারে, প্রয়োজনে নিজের মতো বদলে নিতে পারে, আর কেউ চাইলেও দূর থেকে এটাকে বন্ধ করে দিতে পারে না। চাবিটা থাকে নিজের হাতে।

দেখুন কত সহজে মিলিয়ে নেওয়া যায়।

অফিসের কম্পিউটারের মূল ব্যবস্থা, যাকে আমরা Windows বলে চিনি, তার বদলে আছে Linux, যার সবচেয়ে চেনা চেহারা Ubuntu। Microsoft Word-এর বদলে LibreOffice Writer কিংবা OnlyOffice। Excel-এর বদলে LibreOffice Calc, আর PowerPoint-এর বদলে LibreOffice Impress। চেহারা প্রায় এক, কাজও এক, শুধু চাবিটা এবার আপনার।

অফিসের ইমেইলের জন্য Outlook-এর বদলে আছে Thunderbird। আর গোটা প্রতিষ্ঠানের মেইল, ক্যালেন্ডার আর ফাইল একসঙ্গে রাখার জন্য Nextcloud কিংবা Open-Xchange। যেখানে যোগাযোগ গোপন রাখা সবচেয়ে জরুরি, সেখানে Proton।

অফিসের মিটিং আর ভিডিও কলের জন্য Microsoft Teams কিংবা Zoom-এর বদলে Jitsi Meet অথবা Nextcloud Talk। প্রতিষ্ঠানের নথি জমা রাখার জন্য OneDrive, SharePoint কিংবা Google Drive-এর বদলে সেই Nextcloud।

ব্যবস্থাপনার রিপোর্ট আর ড্যাশবোর্ডের জন্য Power BI-এর বদলে আছে Metabase কিংবা Apache Superset। আর কে অফিসে ঢুকবে, কোন কর্মী কোন তথ্য দেখতে পাবে, সেই পরিচয় সামলানোর জন্য Microsoft-এর Active Directory-র বদলে Univention কিংবা Samba।

যে প্রতিষ্ঠান এতগুলো আলাদা জিনিস জোড়া না দিয়ে একটাই গোছানো সমাধান চায়, তাদের জন্য আছে openDesk, জার্মানিতে তৈরি একটা সার্বভৌম স্যুট, ঠিক যেদিকে হেঁটেছে সেই আইসিসি। আর এসব রাখার জায়গা? দেশের ভেতরের প্রাইভেট ক্লাউড, এমনকি কালিয়াকৈরে আমাদের নিজেদের সরকারি ডেটা সেন্টার।

আমি বলব না, এই বদল করতে গিয়ে কোনো কষ্ট নেই। আছে। পুরোনো অভ্যাস ছাড়া কঠিন। বছরের পর বছর যিনি Excel-এ জটিল হিসাব বানিয়ে রেখেছেন, প্রথম ধাক্কাটা তিনিই খাবেন। ব্যাংকের কিছু পুরোনো সফটওয়্যার বিদেশি জিনিসের কথা মাথায় রেখে বানানো, তাদের মেলাতে সময় লাগবে। কিন্তু কষ্ট আছে বলেই কাজটা করা যাবে না, এমন তো নয়। নতুন অফিসে ওঠার সময়ও তো গোছাতে কষ্ট হয়। তবু আমরা উঠি, কারণ জায়গাটা নিজের।

টাকার হিসাবটাও ভেবে দেখুন

টাকার হিসাবটাও কম জরুরি নয়, বরং একটা ব্যাংকের বোর্ডের কাছে এটাই হয়তো সবচেয়ে বড় কথা। জার্মানির একটা রাজ্য, শ্লেসভিগ-হলস্টাইন, যেখানে প্রায় ৩০ হাজার সরকারি কর্মী, তারা ৪০ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট আর দশ কোটির বেশি পুরোনো ইমেইল Microsoft থেকে সরিয়ে আনছে। তারা হিসাব কষে দেখেছে, এতে প্রতিবছর লাইসেন্স খরচে বাঁচবে দেড় কোটি ইউরোর বেশি, আর পুরো কাজটা একবার করতে খরচ হবে নব্বই লাখ ইউরোর মতো। ব্যাপারটা একবার ভাবুন। শুধু এক বছরের ভাড়াটাই গোটা বাড়ি ছেড়ে আসার খরচের চেয়ে বেশি।

এবার এটা আমাদের ভাষায় আনি। বিদেশি সফটওয়্যারের লাইসেন্স মানে বছরের পর বছর ডলারে গুনে গুনে টাকা পাঠানো, যার কোনো শেষ নেই। আর নিজের সমাধানে যাওয়া মানে একবারের খরচ, তা-ও বেশির ভাগটাই দেশের টাকায়, দেশের লোকের হাতে। যে দেশের ডলারের রিজার্ভ নিয়ে আমরা সবাই দুশ্চিন্তায় থাকি, সেই দেশে প্রতিটা ব্যাংকের প্রতিবার সফটওয়্যারের বিল মেটানো মানে চুপচাপ কিছু মূল্যবান ডলার বাইরে চলে যাওয়া, এমন জিনিসের জন্য যা আমরা নিজেরাই বানাতে পারি। তাই এটা শুধু একটা ব্যাংকের খরচের কথা নয়, এটা গোটা দেশের পকেটের কথাও।

এই পথে আমরা একা নই

ভয় পাবেন না, এই পথে বাংলাদেশ একা নয়, প্রথমও নয়। সেই আইসিসি এখন openDesk-এ যাচ্ছে। জার্মানির ওই রাজ্য Microsoft ছেড়ে LibreOffice, Thunderbird আর Nextcloud-এ যাচ্ছে, কম্পিউটারে Linux বসাচ্ছে। ডেনমার্কের ডিজিটাল মন্ত্রণালয় তাদের কর্মীদের LibreOffice-এ সরাতে শুরু করেছে। গোটা ইউরোপ এখন এটাকে আর শখ মনে করছে না, মনে করছে নিজের নিরাপত্তার প্রশ্ন। পৃথিবীর বড় বড় প্রতিষ্ঠান একটা কথাই বুঝে গেছে, সুবিধার চেয়েও বড় হলো নিয়ন্ত্রণ।

কঠিন অংশটা সফটওয়্যার নয়, মানুষ

এবার একজন মানুষ নিয়ে কাজ করা মানুষ হিসেবে আসল কথাটা বলি। আমি একটা ব্যাংকে কাজ করি, যন্ত্র নিয়ে নয়, মানুষ নিয়ে। আর এই কাজে শিখেছি, এতক্ষণ যত কথা বললাম, তার মধ্যে কঠিন অংশটা আসলে সফটওয়্যার নয়। কঠিন অংশটা মানুষ।

নতুন জিনিস শিখতে কর্মীরা ভয় পান। এটা দোষ নয়, এটা স্বাভাবিক। যে মানুষটা সারা জীবন একই জিনিসে কাজ করেছেন, একটা অফিস আদেশ দেখেই তিনি নতুন কিছু বুকে টেনে নেবেন না। তাই দরকার ধৈর্য, দরকার প্রশিক্ষণ, দরকার ওপর থেকে কেবল হুকুম নয়, পাশে দাঁড়িয়ে বুঝিয়ে দেওয়া।

আর দরকার নিজেদের লোক তৈরি করা। ব্যাংকের নিজের কর্মীদের আর দেশের তরুণদের এই খোলা সফটওয়্যারে দক্ষ করে তোলা, যাতে আমরা এক বিদেশি নির্ভরতা ছেড়ে আবার গুটিকয় মানুষের ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়ি। এতে কিন্তু আমাদেরই লাভ। আমাদের কর্মীরা নতুন দক্ষতা পাবেন, দেশ একটা নতুন শিল্প পাবে। ভয়টাকে যদি সম্ভাবনার চোখে দেখি, ছবিটা পুরো বদলে যায়।

এই কারণেই আমি বলি, সফটওয়্যার সার্বভৌমত্ব কেবল আইটি বিভাগের কাজ নয়। এটা এইচআরের কাজ, ঝুঁকি বিভাগের কাজ, কমপ্লায়েন্সের কাজ, আর সবার ওপরে বোর্ডের কাজ। কারণ প্রশ্নটা কেবল কোন সফটওয়্যার চলবে তা নয়। প্রশ্নটা হলো, আমাদের ব্যাংক চলবে কিনা, কর্মীরা বেতন পাবেন কিনা, গ্রাহক সেবা পাবেন কিনা, সেই নিয়ন্ত্রণটা কার হাতে থাকবে।

সময় এখনো ফুরায়নি

আমি জানি, এসব শুনে কেউ কেউ বলবেন, এ আবার হয় নাকি, অত বড় বড় কোম্পানির সঙ্গে আমরা পারব? আমার বিশ্বাস, পারব। কারণ এটা পারার ব্যাপার নয়, এটা চাওয়ার ব্যাপার। যে জাতি ভাষার জন্য বুকের রক্ত দিতে পারে, একটা গোটা দেশ স্বাধীন করে নিতে পারে, সেই জাতির পক্ষে নিজের প্রতিষ্ঠানের চাবি নিজের হাতে রাখা কোনো অসম্ভব স্বপ্ন নয়।

আমি কাউকে বলছি না, কালই সব উপড়ে ফেলুন। আমি কারো শত্রু নই, কোনো দেশ কিংবা কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধেও নই। আমি শুধু একটা সহজ কথা বলছি। নিজের প্রতিষ্ঠানের চাবি অন্যের পকেটে রেখে আমরা যে এত নিশ্চিন্তে আছি, সেই নিশ্চিন্ত ভাবটা একটু নাড়া দেওয়া দরকার। ছোট করে শুরু করুন। যেখানে বিপদ সবচেয়ে বেশি, সেখানে আগে একটা বিকল্প পরখ করে দেখুন। একটা বিভাগে, একটা শাখায়, কয়েকটা কম্পিউটারে।

করিম খান একদিন সকালে নিজের চিঠির বাক্স হারিয়েছিলেন। সেই ছোট্ট ঘটনাটা আসলে একটা বড় কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। যাকে আমরা নিজের প্রতিষ্ঠানের জিনিস বলে ভাবি, তার সুইচটা যদি অন্যের হাতে থাকে, তাহলে সেটা আসলে আমাদের নয়।

সময় এখনো ফুরিয়ে যায়নি। সুইচটা অন্যের হাত থেকে ধীরে ধীরে নিজের হাতে ফিরিয়ে আনার এখনই সময়।